গীতা বণিক দত্ত (চুঁচুড়া, হুগলী)

দোলের দিনেই এসেছিলে দেবদূতের মতো,
ছড়িয়ে দিলে আলোর রাশি আঁধার ছিল যত ।
ভরসার হাত ভালোবাসার হাত দিলে বাড়িয়ে,
নতুন করে দুটি চোখে স্বপ্ন এঁকে দিলে।
দুঃখ গুলো জমানো ছিল মনের গোপন কোণে,
তুমি এসে সোনার কাঠি বুলিয়ে গেলে চলে।
আবীর রঙে রাঙিয়েছিলে ফাগুন পূর্ণিমাতে,
দুটি হৃদয় ভরলো উঠে রঙের ছোঁয়াতে।
ইচ্ছে গুলো বন্দী ছিল চিলেকোঠায় চুপিসারে,
তোমার পরশ পেয়ে তারা মেললো ডানা নতুন করে।
ছেঁড়া তারে বাঁধলে সুর ভালোবেসে নিবিড় করে,
জনম জনম থাকবে সাথে কথা দিলে।
দোলের দিনেই হঠাৎ করে রঙ গুলি সব মুছে গিয়ে,
সাদা মেঘে আকাশ ঢেকে গেল।
হাতের চুড়ি,শাখা, পলা চোখের জলে সবই ভেসে গেলো,
সিঁদুর রঙে রাঙিয়ে দূর দেশেতে গেলে তুমি চলে।
সবাই তখন রঙ মোছাতেই ব্যস্ত ছিল,
নেয় নি তোমায় বুকে টেনে নিজের করে।
বাবার ঘরে যে মেয়েটি ছিল সবার চোখের মণি,
এক লহমায় সবাই তাকে পর করে যে দূরে দিল ঠেলি।
বিধির নিয়ম ঘটবে সেতো, বাঁধা দেবার আমরা নই তো কেউ,
মেয়ে বলে সব দোষ টা তারই এমন ভাবনা থেকে মুক্ত কেন না হই।
পরের বাড়ির মেয়েকে সবাই রাখে পর ই করে,
নিজের মেয়ে ভেবে কখনো নেয় না তো আপন করে।
