রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার -:
বুধবার আসানসোল শিল্পাঞ্চলে কয়েক হাজার বাম কর্মী-সমর্থকের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এক বিশাল বর্ণাঢ্য মিছিলের মাধ্যমে জেলা শাসক ও মহকুমা শাসকের দপ্তরে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন ৫ বাম প্রার্থী। ঢাক-ঢোল আর লাল পতাকায় মোড়া এই মিছিল শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। “ইনকিলাব জিন্দাবাদ”।
এদিন মনোনয়ন পত্র জমা দেন, আসানসোল উত্তরের সিপিআই(এম) প্রার্থী আখিলেস কুমার সিং, আসানসোল দক্ষিণের শিল্পী চক্রবর্তী, জামুরিয়ার মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন, কুলটির ভবানী আচার্য্য এবং বারাবনির আইএসএফ সমর্থিত প্রার্থী বিশ্বজিত বাউরী।
মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে আসার পর প্রার্থীদের কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর। তাদের প্রধান দাবিগুলি হলো, আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরুজ্জীবিত করা, বর্তমান শাসক দলের নিয়োগ দুর্নীতি ও অন্যান্য কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং অসংগঠিত শ্রমিক ও খনি শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে দ্বিমুখী লড়াইয়ের যে আবহ তৈরি হয়েছিল, আজকের এই জমায়েত তাকে চ্যালেঞ্জ জানাল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বাম নেতৃত্বের দাবি, মানুষ বিকল্প খুঁজছে এবং সেই বিকল্প হিসেবে বামপন্থীরাই একমাত্র ভরসা।
মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্টের জেলা স্তরের শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রার্থী তালিকায় যেমন অভিজ্ঞ মুখ রয়েছে, তেমনই তারুণ্যের জোয়ার দেখা গিয়েছে।
সিপিএম প্রার্থী বলেন, “আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি শিল্পের পুনরুজ্জীবন আর কর্মসংস্থানের দাবি নিয়ে। আসানসোল আজ মাফিয়া রাজ আর তোলাবাজির কবলে। আমরা শিল্পের ধোঁয়া দেখতে চাই, রাজনৈতিক গুন্ডামি নয়। আজকের এই ভিড় প্রমাণ করছে, মানুষ বদল চাইছে।”
আসানসোলে বামেদের এই শক্তির আস্ফালন আসন্ন নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময় বলবে। তবে আজকের এই মনোনয়ন মিছিল যে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরকেই কড়া বার্তা দিয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এদিন মহকুমা শাসকের দফতর চত্বরে নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। বামেদের এই আগাম পদক্ষেপ শিল্পাঞ্চলের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, এই আবেগ ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।


