রমেশ রায়: দক্ষিণ 24 পরগনা:- সাগর: ২০২৬-এর গঙ্গাসাগর মেলা কি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে? জেলা প্রশাসনের অনুমান অন্তত তেমনটাই। আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা এই মেলায় এবার উপচে পড়া ভিড় সামলাতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে রাজ্য সরকার। শনিবার সাগরের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কচুবেড়িয়া থেকে কপিলমুনির আশ্রম পর্যন্ত ম্যারাথন সফর করলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়া।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও ড্রেজিং অপারেশন:
পুণ্যার্থীদের যাতায়াত মসৃণ রাখতে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ মুড়িগঙ্গা নদীর নাব্যতা। মন্ত্রী জানান, প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। লক্ষ্য একটাই— জোয়ার-ভাটার বাধা কাটিয়ে ২৪ ঘণ্টা ভেসেল পরিষেবা সচল রাখা। এদিন মন্ত্রীর সঙ্গে সীমান্ত কুমার মালি চেয়ারম্যান GBDAপরিদর্শনে ছিলেন সাগর ব্লকের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও এবং জেলা প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। কচুবেড়িয়া ও গঙ্গাসাগর পয়েন্টের অস্থায়ী জেটি এবং পরিকাঠামো ঘুরে দেখে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তি:-
ভিড় নিয়ন্ত্রণে এবার প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে থাকবে:
আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে কড়া নজরদারি।
হাজার হাজার সিসিটিভি ক্যামেরার জাল।
অতিরিক্ত বাফার জোন এবং বিশাল এলাকা জুড়ে যাত্রীনিবাস।
প্রশাসনের লক্ষ্য:-
সেচমন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এ বছর কুম্ভ মেলা না থাকায় সাগরে রেকর্ড ভিড় হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য কোনো খামতি রাখা হবে না।” ‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’—এই প্রবাদকে সার্থক করতে প্রশাসনের মূল মন্ত্র এখন ‘নিরাপদ ও স্বচ্ছ মেলা’।