রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার -:
বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জ্জী। দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত এই সভা থেকে একদিকে তিনি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগে সরব হন। তৃণমূলকে ‘পাণ্ডব’ এবং বিজেপিকে ‘কৌরব’ তকমা দিয়ে মহাভারতের উপমা টেনে মমতা সাফ জানান, লড়াই হবে ‘পাণ্ডব’ ও কৌরবদের মধ্যে, ধর্মের সঙ্গে অধর্মের।

তিনি অভিযোগ করেন , কেন্দ্র সরকার বাংলার ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজ্যের প্রাপ্য বরাদ্দ জোর করে আটকে রেখেছে। উন্নয়নকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারের চালু করা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী থেকে শুরু করে বার্ধক্য ভাতার মতো সামাজিক প্রকল্পগুলি কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে সেই খতিয়ান দেন তিনি। মহিলাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “মা-বোনেরা ভালো থাকলে বাংলা ভালো থাকবে।” নাম না করে বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি সাফ জানান, বাংলা শান্তির জায়গা, এখানে বিভেদের রাজনীতির কোনো স্থান নেই।

নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে রীতিমতো চড়া সুরে মমতা প্রশ্ন তোলেন, “কমিশন এখনও কেন তালিকা বের করতে পারছেনা? আসলে বিজেপির কথাতেই চলছে কমিশন”। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “বিজেপি আগে থেকেই বলেছিল ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ যাবে। বাস্তবে সেটাই করছে কমিশন। এতেই প্রমাণিত বিজেপি আগে থেকে সব ঠিক করে রেখেছিল।” মমতা বলেন, “কারও পয়সায় এক কাপ চাও খাইনি, আমাকেও ওরা চোর বলছে!” কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করতে গিয়ে রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গও টেনে আনেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অগ্নিমূল্যের বাজারে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এদিন মমতা জানান, “ক্ষমতায় ফিরলে ঘরের সামনে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে শুরু হবে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য”।
এদিন পাণ্ডবেশ্বরের সভা কার্যত জনসমুদ্র ছিল। দুপুরের চড়া রোদ উপেক্ষা করেই হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক ভিড় জমান। এদিন মমতার সভায় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলা তৃণমূলের প্রথম সারির নেতৃত্ব এবং দলীয় প্রার্থী।


