পুরানো সেই দিনের কথা

রুনা মুখার্জী (কলকাতা)

জানো মা, আজ তোমাদের কথা খুব মনে পড়ছে।
হয়তো অনেকদিন দেখিনি তাই।
তোমার মনে আছে মা ছোটবেলায় আমি যেটা খেতে ভালোবাসতাম সেটা তুমি নিজে না খেয়ে,
আমাকে বেশি করে খাওয়াতে।
তারপর বলতে তুই খেলেই আমার পেট ভরবে।
তোমার হাতে বানানো আমার প্রিয় খাবার গুলো আমি নিজেও তো কত সুন্দর ভাবে রান্না করি কিন্তু তোমার বানানো খাবারের মত এত সুন্দর স্বাদ পাই না কেন মা?
কোন সময় আমাকে যদি একটু বকতে,
তারপর জলে ভরা চোখ নিয়ে জড়িয়ে ধরে আদর করতে।
আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তখনও বার বার জড়িয়ে ধরে আদর করে আমার কপালে এঁকে দিতে তোমার ভালবাসার চিহ্ন।
তখনও তোমাদের আদরে আমি বুঝিনি আমি বড় হয়ে গেছি।
বড়রা কিছু বললে আমি চুপ করে থাকতাম।
তুমি বলতে আমার মেয়ে বড় শান্ত,
ও কাউকে কিছু বলতে পারে না।
তারপর বলতে এটাই ঠিক।
গুরুজনদের মুখের উপর কথা বলতে নেই।
আমার শরীর খারাপ হলে কাঁদতে কাঁদতে বলতে,
তোর শরীর খারাপ না হয়ে যদি আমার হতো তাহলে ভালো হতো।
আমি রাগ করলে তুমি বলতে আমার মেয়ে বড় অভিমানী।
তারপর তুমি আমার পায়ে হাত বুলিয়ে দিতে,
আর সন্তান স্নেহে অন্ধ বাবা ,আমার মাথায় আদর করে হাত বুলিয়ে রাগ ভাঙ্গানোর চেষ্টা করত।
বাবা মারা তো দূরের কথা, কোনদিনও মারবো বলেনি।
শুধু বলতো ওকে বকতেও আমার কষ্ট হয়।
তারপর রাগ ভেঙ্গে গেলে আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরতাম।
যেদিন আমার বিয়ে ঠিক হল সেদিন তোমাদের সকলের চোখে জল।
আমি তাকাতেই তোমরা বললে চোখে বালি পড়ে গেছে।
তোমাদের কান্না দেখে আমি কষ্ট পাই পাচ্ছে তাই।
বিয়ের আগের দিন রাত্রে তুমি বলেছিলে, ভি আই পি তে তোমার সব জিনিস আছে, তুমি ঠিক করে দেখে নাও।
ওখানে তো আমি থাকবো না।
সেদিন প্রথম বুঝেছিলাম ,আমি বড় হয়ে গেছি।
খুব কেঁদেছিলাম আমি ,আলাদা হয়ে যাচ্ছি, এই ভেবে।
আজ আমিও মা হয়ে গেছি।
তবুও প্রতিদিন ফোনে যখন তোমার সাথে কথা বলি,
তখন মনে হয় আমি এখনো ছোট আছি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *