মুখ্যমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রয়াস: সাগরে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্বের শুভ সূচনা, পাকা ছাদ পাচ্ছে হাজারো পরিবার


রমেশ রায়, দক্ষিণ 24 পরগনা:-সাধারণ মানুষের মাথার ওপর পাকা ছাদ নিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি’ (গ্রামীণ)-র দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সাড়ম্বরে শুরু হলো। রাজ্যজুড়ে প্রায় ২০ লক্ষ পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এরই অঙ্গ হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগণার সাগর ব্লকের রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মনসাদ্বীপ খাসমহাল গ্রামে এক অভিনব ‘ক্লাস্টার-মোড’ ভূমিপুজো বা ভিত-পুজো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মনসাদ্বীপ খাসমহাল গ্রামটি মূলত তফসিলি জাতি (SC) অধ্যুষিত এলাকা। উল্লেখ্য, ১৯৯৪-৯৫ সালে ঘোরামারা দ্বীপের ভয়াবহ ভূমি ক্ষয়ের কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে এই মানুষগুলো এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় কাঁচা ঘরে কষ্টে দিন কাটানোর পর, রাজ্য সরকারের ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহযোগিতায় আজ তাঁরা পাকা ঘর পেতে চলেছেন। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১১২ জন ঘর পেলেও, দ্বিতীয় পর্যায়ে নতুন করে আরও ১৮৫ জন উপভোক্তার হাতে অনুমোদনপত্র বা ‘স্যাংশন লেটার’ তুলে দেওয়া হয়। এদিন অনুষ্ঠানটি একটি উৎসবের রূপ নেয়। সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি সহ একঝাঁক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থেকে উপভোক্তাদের হাতে পাট্টা ও শুভেচ্ছা বার্তা তুলে দেন। গ্রামের ১৫টি বাড়িতে প্রথা মেনে ক্লাস্টার মোডে ভূমিপুজো সম্পন্ন হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাগর ব্লকে সব মিলিয়ে ৯,১৩০টি পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে, যার জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০৯.৫৬ কোটি টাকা। অনুষ্ঠানে একটি বৃহৎ এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে আগের পর্যায়ের সফল উপভোক্তাদের অভিজ্ঞতা বর্তমানদের সামনে তুলে ধরা হয়, যা উপস্থিত জনতাকে অনুপ্রাণিত করে। নতুন বাড়ি তৈরির পাশাপাশি শৌচাগার নির্মাণের মাধ্যমে গ্রামটিতে শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি প্রীতিভোজ এবং মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের মাধ্যমে শেষ হয়। বাস্তুচ্যুত এই মানুষগুলোর কাছে এখন ‘বাংলার বাড়ি’ কেবল একটি ভবন নয়, বরং দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এক স্থায়ী নিশ্চিন্ত আশ্রয়।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *