মৃত্যু পথযাত্রীকে নবজীবন দিল পিঠাকিয়ারি গ্রামীণ হাসপাতাল

মৃত্যু পথযাত্রীকে নবজীবন দিল পিঠাকিয়ারি গ্রামীণ হাসপাতাল

কাজল মিত্র, সালানপুর:-

মৃত্যু পথযাত্রীকে নবজীবন দিল পিঠাকিয়ারি গ্রামীণ হাসপাতাল
এমনই এক অসাধ্য সাধন করে দেখালেন হাসপাতালের চিকিৎসক
জানাযায় যে মৃত প্রায় অবস্থায় রূপনারায়ণপুরের বাসিন্দা বরুণ বসু কে নিয়ে পিঠাকেয়ারি হাসপাতালে পৌঁছালেন পরিবারের লোকজন। যে সময় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তার শরীরে খাবার খাওয়ার একমাত্র সাধন নল। দীর্ঘদিন শুয়ে থাকার ফলে বেডসোরে আক্রান্ত হয়েছিলেন, কোমরের হাড় ভেঙে সমস্যায় পড়েছিলেন, কিডনিও বিকল হচ্ছিল – সেই তাকেই নবজীবন দিলেন পিঠাকিয়ারী গ্রামীণ হাসপাতালের আধিকারিক ডাক্তার বিনয় রায় ও হাসপাতালের পুরো টিম। তিনি একসময় হিন্দুস্তান কেবলস কারখানায় চাকরির সূত্রে দাপুটে ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ছিলেন। আশি ঊর্ধ বরুণ বাবু বয়স জনিত কারণেই নানান সমস্যায় ভুগছিলেন। তাকে সুস্থ রাখতে তার জামাতা অরূপরতন মন্ডল এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করিয়েছিলেন। সেখানেই ধীরে ধীরে শারীরিক অসুবিধাগুলি আরো তীব্র হতে শুরু করে। এক সময় এমন দাঁড়ায় যে, দিন প্রতি ২৫-৩০ হাজার টাকা ব্যয় করেও বরুন বাবুকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হচ্ছিল না। দীর্ঘদিন সেখানে ভর্তি রাখার ফলে আর্থিক অসুবিধাও দেখা দিচ্ছিল। এই অবস্থায় ১৬ ফেব্রুয়ারি বরুণবাবুকে পিঠাকিয়ারি গ্রামীণ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ‌ সালানপুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার বিনয় রায় বলেন তাকে যে অবস্থায় এই হাসপাতালে আনা হয়েছিল তা ছিল অত্যন্ত সঙ্কটময়। বরুণ বাবু অজ্ঞান হয়ে ছিলেন, খাবারদাবার যা কিছু নল দিয়ে শরীরে পাঠানো হচ্ছিল। সকলেই তার বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। ‌ কিন্তু বিএমওএইচ ডাক্তার রায় তার হাসপাতালের সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বরুন বাবুর চিকিৎসায় বিশেষ উদ্যোগী হন। সরকারি ব্যবস্থাপনার মধ্যেই প্রয়োজনীয় মূল্যবান এ্যন্টিবায়োটিক সহ অন্যান্য ওষুধপত্র তাকে হাসপাতাল থেকেই দেওয়া হয়। ওষুধপত্রের সাথে সাথেই রোগীকে সারিয়ে তোলার জন্য মানবিক পরিষেবাও হাসপাতাল থেকে দেওয়া শুরু হয়। যা দেখে বরুণ বাবুর পরিবারের লোকজন অত্যন্ত আশ্বস্ত হন। ধীরে ধীরে বরুণ বাবুর শরীরের সেপ্টিসেমিয়া ঘা ভালো হতে থাকে, হাড়ভাঙ্গা কোমর কার্যকরী হতে থাকে। নল খুলে ফেলে মুখ দিয়ে খাবার খাওয়ানো শুরু হয়। আজ বরুণ বাবু তার নানান জটিলতাকে কাটিয়ে হাসপাতালের বেডে উঠে বসেছেন, কথা বলছেন, হাসছেন, স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে অন্যদের খবরাখবর নিচ্ছেন এবং বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করছেন। যা দেখে অত্যন্ত আনন্দিত বিএমওএইচ ডাক্তার রায় এবং বরুণ বাবুর আত্মীয়-স্বজনেরা। এ প্রসঙ্গে বরুণ বাবুর স্ত্রী মন্ডল বলেন, পিঠাকিয়ারি হাসপাতাল এক অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলল। হাসপাতালের বিপক্ষে সামান্যতম অভিযোগ তোলার সুযোগ তাদের কারও নেই। বিশেষ করে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার বিনয় রায়ের প্রশংসা করে স্ত্রী বলেন তিনি যেভাবে বরুন বাবুকে সুস্থ করার জন্য মনোনিবেশ করেছিলেন তা দীর্ঘকাল তাদের মনে থেকে যাবে। এখন সকলেই তারা অপেক্ষা করছেন দু-একদিনের মধ্যেই বরুণ বাবুকে তার রূপনারায়ণপুরের প্রিয় বাড়িটিতে ফিরিয়ে আনার জন্য।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *