রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার -:
শনিবার রানীগঞ্জের জনসভা মঞ্চে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জ্জীর কণ্ঠ থেকে শোনা গেল দুই সুর। জামুড়িয়া বিধানসভার দলীয় প্রার্থী হরেরাম সিংকে জেতানোর জোরালো আবেদন করার পাশাপাশি তার পুত্রের আচরণ নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অভিযোগ সে নাকি চারচাকা গাড়ি নিয়ে হুটার বাজিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায়। নাম না করে পুত্রের সেই আচরণ বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দেন তিনি। দলের অন্দরের শৃঙ্খলা এবং জনসংযোগের উপর জোর দিয়ে নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো ধরণের গাফিলতি সহ্য করা হবে না।
মমতা বলেন, “এলাকায় উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে হরেরামকে জেতাতেই হবে।” দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হলে কেউই রেহাই পাবেনা – এই বার্তাটাও তিনি দেন। প্রসঙ্গত, প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস না করলেও হরেরামের পুত্রের উদ্ধত আচরণের জন্য এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভ আছে। ফলে দলীয় প্রার্থীর জেতার বিষয়ে একটা সংশয় থেকেই যায়। বিষয়টি উপলব্ধি করে দলনেত্রী এই কড়া বার্তা দিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও নির্বাচনের সময় ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বিরল নাহলেও খান্দরার প্রকাশ্যে মঞ্চে মমতার এই দ্বৈত বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।


সভায় জনসংযোগের উপর জোর দিয়ে দলনেত্রী জানান, “প্রার্থীকে সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে হবে, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, ”আমি চাই হরেরাম মানুষের ঘরে ঘরে যাক তাদের সুখ-দুঃখের কথা শুনুক।”
নির্বাচনী আবহে মমতার এই ‘কড়া দাওয়াই’ স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে যেমন চাঞ্চল্য তৈরি করেছে, তেমনই ভোটারদের একটি বড় অংশের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কড়া প্রতিক্রিয়ার পথে না হেঁটে বিজেপি প্রার্থী বিজন মুখার্জ্জী নরম সুরে বলেন, “জামুড়িয়া শান্ত এলাকা। আমাদের অভিযোগ যে সঠিক ছিল সেটা উনারাও বুঝেছেন। তাই সতর্ক করেছেন।”


