লোকসভা নির্বাচনের আগে বিস্ফোরক মন্তব্য – শিল্পাঞ্চলে চাঞ্চল্য

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী, আসানসোল:- স্থানীয় একটি পাক্ষিক পত্রিকার সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় বিস্ফোরক মন্তব্য করল একটি বহুজাতিক সংস্থার বাণিজ্যিক বিভাগের পূর্বাঞ্চলীয় শাখার প্রধান দেবশীষ দাস। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দেবশীষ বাবু বলেন- এক সময় শিল্পের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থান ছিল পশ্চিমবঙ্গের। একের পর এক শিল্প গড়ে উঠেছিল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। সেই সময় কারখানার সাইরেনের শব্দে ঘুম ভাঙত আশেপাশের বাসিন্দাদের। কর্মীদের কোলাহলে মুখরিত থাকত গোটা শিল্পাঞ্চল এলাকাগুলি। কিন্তু সে সব এখন অতীত। আজ সর্বত্রই বিরাজ করছে শ্মশানের নিস্তব্ধতা। এমনকি ভারতের রূঢ় অঞ্চল নামে পরিচিত আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে এখন শুধুই শ্রমিকদের হাহাকার। আর তাই নিয়েই আক্ষেপ প্রকাশ করলেন একটি বহুজাতিক সংস্থার পূর্বাঞ্চলীয় শাখার বাণিজ্যিক বিভাগের প্রধান দেবাশীষ দাস। তিনি আরও বলেন- আমি রাজনীতির জগতের লোক নই। বাস্তবটাই তুলে ধরছি মাত্র। এক সময় আসানসোল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত কেন্দ্র সরকারের অধীনে অনেকগুলো বড় বড় কারখানা ছিল। আজ সেগুলো হয় বন্ধ অথবা রূগ্ন। এর দায় কার? তিনি বলেন, বাম শ্রমিক সংগঠনের আন্দোলন কারখানা বন্ধের প্রধান কারণ হলেও সেগুলো চালু করার বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগ কোথায়? গত দশ বছর ধরে কেন্দ্রে বিজেপি পরিচালিত সরকার আছে। অথচ এই রাজ্যের বিজেপির কোনো সাংসদকে দেখা গেলনা কারখানাগুলো চালু করার বিষয়ে সংসদে সক্রিয় উদ্যোগ নিতে। অথবা উদ্যোগ যে নিয়েছে তার স্বপক্ষে কোনো নথি প্রমাণ হিসাবে জনগণের সামনে তুলে ধরেছে। কী করে এদের বিশ্বাস করা যাবে? বারবার বলা হয় সিঙ্গুর থেকে টাটাদের নাকি তাড়ানো হয়েছে! সত্যিই কি তাই? টাটাদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের চুক্তির নথি কোথায়? তাছাড়া একটা গাড়ির কারখানা তৈরি করতে কত একর জমি লাগতে পারে? বিএসএনএল কাদের দক্ষতার জন্য ধুঁকছে? রাজ্য সরকারের দিকে আঙুল তোলার আগে কেন্দ্র সরকার বলুক এই রাজ্যে কেন্দ্র সরকার পরিচালিত বন্ধ বা রুগ্ন কারখানাগুলো চালু করার ব্যাপারে গত দশ বছর ধরে কী ধরনের উদ্যোগ তারা নিয়েছে? সেগুলো পুনরায় চালু হলে রাজ্যের অর্থনৈতিক পট পরিবর্তন হয়ে যাবে। অথচ এটা নিয়ে কেউ কিছু বলছেনা। শুধুই নোংরা রাজনীতি চলছে।

বাণিজ্যিক কর্তার এহেন বক্তব্যে ইতিমধ্যে শোরগোল শুরু হয়েছে গোটা শিল্পাঞ্চল জুড়ে। প্রকাশ্যে মুখ খুলতে না চাইলেও চায়ের ঠেকে বা ব্যক্তিগত আলোচনায় এই বক্তব্যকে অনেকেই সমর্থন করছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *