রাকেশ লাহা, জামুড়িয়া, পশ্চিম বর্ধমান :-
মঙ্গলবার ছিল অগ্ৰহায়ণ সংক্রান্তি অর্থাৎ অগ্ৰহায়ণ মাসের শেষ দিন। অন্যান্য বছরের মত এবছরও রীতিনীতি ও নিয়ম নিষ্ঠা সহকারে জামুড়িয়ার ফরফরি গ্রামের আখড়া তামালতলা আশ্রমে অনুষ্ঠিত হলো সাধুসেবা এবং ভক্ত ভোজন।
যেখানে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সাধু সন্ন্যাসীরা উপস্থিত ছিলেন, এছাড়াও এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এদিন খিচুড়ি প্রসাদ গ্রহণ করেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , ফরফরি আখড়া তামালতলা আশ্রম, যেখানে যুগ যুগ ধরে বহু সাধুদের আনাগোনা।
বহু সাধু এখানে দেহ রেখেছেন এবং তাদের সমাধিও রয়েছে এই আশ্রমের চতুর্দিকে। সেইসব সাধু সন্ন্যাসীদের স্মরণ করে প্রতিবছর জাঁকজমক পূর্ণভাবে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সাধু সন্ন্যাসীদের উপস্থিতিতে এবং গ্রামবাসী এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামবাসীদের আর্থিক সহযোগিতায় তিন দিনব্যাপী চলে নানান অনুষ্ঠান।
এই বিষয়ে আশ্রমের বর্তমান সেবাইত প্রেমানন্দ গোস্বামী জানান, আমি বিগত পাঁচ থেকে ছয় বছর হলো এই আশ্রমের সাথে যুক্ত। এর আগে বহু সাধু সন্ন্যাসীরা এই আশ্রমে চরণধূলি দিয়েছেন। তিনি জানান আমি স্থানীয়দের কাছ থেকে যেটুকু জানি যে এই আশ্রম প্রায় শতাধিক প্রাচীন। যুগ যুগ ধরে এই আশ্রমে অগ্ৰহায়ণ সংক্রান্তি উপলক্ষে মহোৎসব অনুষ্ঠান হয়।
তিনি বলেন আগে এই অনুষ্ঠান স্বল্প পরিসরে বিস্তার থাকলেও, বর্তমানে এই অনুষ্ঠান মানুষের সহযোগিতায় আমরা বৃহৎ আকারে পালন করতে পারছি।
প্রথম দিন আমাদের আগমনী অনুষ্ঠান থাকে যেদিন সাধু সন্ন্যাসীরা আশ্রমে প্রবেশ করেন, ঠিক তারপর দিন অর্থাৎ সংক্রান্তি তিথির দিন মহোৎসব অনুষ্ঠান হয় , এদিনই রাত্রিতে বসে বাউল গানের আসর এবং ঠিক তারপর দিন আমাদের বিদায়ী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ।
তিনি জানান গ্রামবাসী এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠান এতদিন ধরে চলে এসেছে এবং আগামী দিনেও এই অনুষ্ঠান বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে।