অশোককানন

অদিতি চক্রবর্তী (কলকাতা)

​আমি যখনই বিষণ্ণ আয়নায়
নিজের ‘বিরহী’ মুখ দেখতে চেয়েছি–
তুমি অলক্ষ্যে আমার ললাটে এঁকেছো
এক প্রশান্ত ‘রোহিণী’ নক্ষত্রের টিপ।
চোখের কোণে জমে থাকা এক ফোঁটা ‘জল’
যখনই ঝরতে চেয়েছে–
তুমি তাকে মুক্তো করে গেঁথেছো এক নিটোল ‘অঞ্জলি’তে
​আমি শুষ্ক ঠোঁটে যখনই উচ্চারণ করতে গিয়েছি নামহীন ‘ব্যথা’,
তুমি আমার চিবুক ছুঁয়ে তাকে বানিয়ে দিলে
এক অনুচ্চারিত প্রেমের ‘কাব্যগাথা’।
আমার এই ম্লান ‘আনন’ যখনই
অভিমানে নত হতে চেয়েছে
তুমি তাকে তুলে ধরলে এক অনন্য ‘আবাহন’ হিসেবে
যেন আমি একাকী নই, আমি তোমারই প্রতীক্ষার তপোবন।
​আমি যখন নির্জনতায় লিখতে বসেছি কেবলই ‘বিচ্ছেদ’,
তুমি আমার আঙুলের ফাঁকে গুঁজে দিলে
চিরন্তন এক ‘অবিচ্ছেদ’ অনুরাগের কলম।
​এখন আমি তবে কোথায় হারাব আমার এই ‘শোক’?
যখন তোমার দৃষ্টিতে আমার এই কান্নাই হয়ে উঠেছে
এক পবিত্র ‘অশোক’ কানন!

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *