জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী, আউসগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান -: নিজের বিদ্যালয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে জীবনের প্রথমবারের জন্য বড় পরীক্ষা দিতে গিয়ে স্বাভাবিক কারণেই 'টেনশন'-এ ভোগে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। কেউ কেউ পরীক্ষায় বসার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাডমিট কার্ড নিতে ভুলে যায়। কেউ আবার অন্য সমস্যায় পড়ে যায়। যেমন পড়ল আউসগ্রামের ভেদিয়া গ্রামের রণজিৎ দাস। তার পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল আউসগ্রামের রামনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে। নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধুর মোটরসাইকেলে চেপে সে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। মাঝ রাস্তায় ঘটে যায় বিপত্তি, গাড়ির পেট্রোল শেষ হয়ে যায়। কাছাকাছি কোথাও পেট্রোলও তারা পায়নি। ওদিকে পরীক্ষাও শুরু হয়ে গেছে। পরীক্ষা দিতে পারবনা - এই চিন্তায় ভেঙে পড়ে রণজিৎ। নিজ এলাকার সর্বত্র পরীক্ষা ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা সেটি সরেজমিনে দেখার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রগুলি পরিদর্শনে বের হন ছোড়া পুলিশ ফাঁড়ির ওসি ত্রিদিব রাজ। বিদ্যালয়ের পোশাকে মাঝ রাস্তায় অসহায় অবস্থায় ছাত্রটিকে দেখতে পেয়ে তিনি পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পারেন। দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে ছাত্রটিকে জিজ্ঞাসা করে সবটাই জানতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে নিজের গাড়িতে চাপিয়ে ছাত্রটিকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেন। তার তৎপরতার জন্য একটি ছাত্র শেষপর্যন্ত পরীক্ষায় বসতে পারে। খবরটি শুনে বিশিষ্ট গবেষক রাধামাধব মণ্ডল বললেন, পুলিশ যে প্রকৃত সমাজবন্ধু এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
Posted inজেলার আপডেট