অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার -:
অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পরিবারের সদস্যরা ভোলু যাদবকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করান। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়ে রক্তের। কিন্তু রক্ত জোগাড় করতে না পেরে কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়ে ভোলুর পরিবার। সূত্র মারফত বিষয়টি জানতে পারেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা রক্তদাতা ও রক্তদান শিবিরের আয়োজক সঙ্গীতা নোনিয়া। খবর পেয়েই তিনি ভোলুর পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ান ও তাদের আশ্বস্ত করেন। বিকল্প না পেয়ে নিজেই রক্তদান করে ভোলুর অমূল্য প্রাণ করেন। এবার নিয়ে তিনি ২৬ বার রক্তদান করেন।
প্রসঙ্গত, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘অখিল ভারতীয় যুবশক্তি’-র কর্ণধার সঙ্গীতা দেবী ও তার সঙ্গীরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন সেবামূলক কাজের মাধ্যমে এলাকাবাসীর মনে একটা আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের হাতে নিজেদের সাধ্যমতো পড়াশোনার সামগ্রী তুলে দিয়েছেন, দুস্থদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করেছেন। এমনকি তাদের হাতে ওষুধও তুলে দিয়েছেন। এছাড়া নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন তো আছেই। এলাকার অসহায় মানুষ বিপদের সময় সঙ্গীতা নোনিয়া, সীমা ভগত, সুলেখা, বিকেশ মাহাতো, অঞ্জনা সিং, আকাশ বর্মণ, জিতু প্রসাদ, প্রকাশ রাম, জয় প্রসাদের মতো নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের সবসময়ই পাশে পান।
ঈশ্বর যাতে তাকে আরও বেশি করে সাধারণ মানুষের সেবা করার সুযোগ দেন ঈশ্বরের কাছে সেই প্রার্থনা করে সঙ্গীতা দেবী বললেন, এটা নিয়ে আমার জীবনে ২৬ তম বার রক্তদান করার সুযোগ হলেও আজ আমি খুব খুশি। তিনি আরও বলেন, রক্তদান একটি মহান দান, জীবনদান এবং সেবাই সর্বোচ্চ পুণ্য। ‘অল ইন্ডিয়া ইয়ুথ পাওয়ার’-এ যোগ দিয়ে প্রত্যেককে বিশেষ করে মহিলাদের তিনি রক্তদানে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান করেন। তিনি বলেন, মাতৃস্বরূপা নারীরা রক্তদান করে একজন মুমূর্ষু ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে পারেন।

