মৌমিতা মৌ (কলকাতা)

যেই ভেবেছি..
অমলতাসের সোনালি অলংকারে সাজাবো নিজেকে,
সূর্যের ফোঁটা ঝরে পড়বে কপালের সিঁথিতে।
মাধবীলতা লাজুক জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে বলে– “ও মেয়ে, আমাকে ছাড়া সাজবি?
তবে তো বসন্তের রঙের বাহার হবে পুরোটা ফিকে।”
এমন সময় আঁজলা ভরে,
কে যেন মুঠো মুঠো কৃষ্ণচূড়া ছুঁড়ে দেয় আকাশে..
লাল আগুন ঝরে পড়ে পুষ্পবৃষ্টির মতো।
ডালের আড়াল থেকে পলাশ গুলো,
জ্বলন্ত প্রদীপের মতো চেয়ে থাকে!
কতক্ষণ ধরে যেন অপেক্ষার রঙ মেখে।
নিজেকে সাজাতে গিয়েই দেখি কত অকারণ বিড়ম্বনা!
রঙের বাজারে দাঁড়িয়ে মনটাই যেন হয়ে গেছে সস্তা– দরদামহীন।
ঠিক তখনই মনমাতানো বেলিফুলের সুবাস ছড়িয়ে কতশত একলা পথিক হেঁটে চলে দূর পথে,
ওরা যেন বেমালুম ভুলে গেছে বসন্ত–
মনে হয় এমন সময়ে ঋতুরাও কখনও পথ হারায়।
দ্বিধাদ্বন্দ্বে কতবারই তো হয়েছে এমন–
সাজবো সাজবো করে প্রাণপণ নিজেকে সঁপেছি!
ততক্ষণে দেখি বসন্ত ঝরে পড়েছে পাতার ফাঁক দিয়ে।
ইচ্ছের ব্যাকরণ শুকিয়ে গেছে
ঝুলন্ত পাতার মতো হাওয়ায়,
খটখটে গ্রীষ্ম এসে দাঁড়িয়েছে
একবুক তৃষ্ণা নিয়ে দরজায়।
কার্নিশে বসে থাকা পায়রা জোড়া
আজও সাক্ষী–
খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে মেয়েটা
মনে মনে নিজেকে সমর্পণ করেছিল যেন কাকে?
আমি আজও দাঁড়িয়ে আছি–
রঙের ভিড় পেরিয়ে,
ঋতুর বাজার ছাড়িয়ে।
ভুলে গেছি সওদা করতে
মন দেওয়া-নেওয়ার তুল্যমূল্যে, তবু জানি–
ভালোবাসার দাম চুকিয়ে যেতেই হয় একদিন,
সময় তার হিসেব ভুলতে দেয় না কখনও !!
কিন্তু আমার কাছে তো আর দেওয়ার মতো কিছুই নেই!