রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান -:
কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠীতে ছট্ ব্রতর বিধান রয়েছে। অথর্ব বেদেও এই পর্বের উল্লেখ রয়েছে। সূর্যের এই ব্রতে শক্তি এবং ব্রহ্মার উভয়ের পুজোর ফল পাওয়া যায়। তাই এই ব্রত সূর্য ষষ্ঠী নামে বিখ্যাত। এই ব্রত পালনে সূর্যদেবের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি আমাদের জীবনে যেমন বিঘ্ননাশক, দুঃখনাশক, তেমনি সুখদায়ক ও অর্থ-বৈভবদায়ক।
ছট পুজো মূলত বিহারী সমাজের হলেও আসানসোলের দামোদর নদীর ছটপুজোর ঘাটে এক বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থাকার সুযোগ পেল স্থানীয় ও আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা। কার্যত সমস্ত ধর্মের মানুষ এই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার জন্য ছটপুজোর ঘাটে উপস্থিত হয়।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ছট পুজো ঘাটের পাশাপাশি আসানসোলের তপসি বাবা ও রামগোলাম সিং তালাও ছট ঘাটের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ছট পুজো হলো সূর্য দেবতার উপাসনা যিনি আলো দিয়ে বিশ্বকে আলোকিত করেন, মানুষকে শক্তি ও জীবন দেন। চার দিন ধরে চলে এই পুজো৷ দীপাবলীর ৬ দিন পর কার্তিক মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতে এই পুজো করা হয় বলে এর নাম ছট পুজো।
সূর্যদেবের ছোট বৌ ঊষাকে এই পূজায় ‘‘ছোটি মইয়া” হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
ছোটপুজোর ব্রতীরা ভাইফোটার পর থেকেই টানা নিরামিষ খান। পুজোর দু’দিন আগে থেকে লাউয়ের পদ খেতে হয়। পুজোর ঠিক আগের দিন ক্ষীরের ভোগ ‘খারনা’ নিয়ম পালিত হয়।
ছটপুজোর ডালাতে থাকে হলুদ গাছ, আম পল্লব, নারকেল, কলার কাঁদি, বিভিন্ন ফল, ঠেকুয়া ও খাস্তা টিকরি। নদীর ঘাটে একমনে সূর্যদেবের আরাধনা করার পর কোমর জলে দাঁড়িয়ে সূর্যদেবের উদ্দেশ্যে পুজোর ডালা অর্পণ করা হয়। মানতকারীরা বাড়ি থেকে ঘাট পর্যন্ত দণ্ডি কাটেন। প্রণাম করা হয় উদয়গামী আর অস্তগামী সূর্য ও তাঁর স্ত্রী ঊষা ও প্রত্যুষাকে।
উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মাননীয় মন্ত্রী মলয় ঘটক, পশ্চিম বর্ধমান জেলার জেলা শাসক পোন্নমবলম এস, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার সুধীর কুমার চৌধুরী, আসানসোল মহকুমা শাসক (সদর) বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্য, আসানসোল পৌর নিগমের ডেপুটি মেয়র ওয়াসিমূল হক, এম এম আই সি গুরুদাস চ্যাটার্জী, মানস দাস সহ অন্যান্য আধিকারিকবৃন্দ।