আবারও শীত এসে গেল

শুক্লা সরকার (কলকাতা)

আজ মনে পড়ছে সেই সব দিনের কথা,
ঠাকুমা মাকে সব ঘরের চাবিগুলো দিয়ে
বলেছিলেন,”এগুলো যত্ন করে রেখো মা।
আমার শ্বাশুড়ীমাও এভাবেই আমাকে বলে দিয়েছিলেন, সেভাবেই রেখেছি যত্ন করে।”
ভালবাসার অনন্ত প্রহর সে অমৃতের মধুগন্ধে
আমাকে সারাক্ষণ মায়াময় করে রেখেছিল।
ঠাকুমা বলতেন,শীত পড়েছে,গাঁদা ফুটেছে,
সর্ষের তেল মেখে স্নান করো সবাই বুঝেছো!
উল কাঁটার কাজ শেষ,সবাই সোয়েটার পড়বে,
ঠাণ্ডা লাগিও না,মাফলার পরে নেবে অবশ্যই,
গাঁদা,ডালিয়ার যৌবন ফিরেছে,ফুটবে ওরাও।
কত গাছে গাছে ফুল ফুটেছে,শিরশিরানি ভাব,
সর্বত্র সৌন্দর্যের সমাহার,উত্তরের ঠাণ্ডা হাওয়া,
শীত বসন্ত মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় আর
কি ভালো লাগে, পূবের বাতাস বয়ে আনে ঠান্ডা
ও সর্ষে ফুলের গন্ধে ভরা মিষ্টি একটা আনন্দসুর।
আমরা মা কাকীমাদের উলবোনা দেখতাম দুপুরে,
আর ঠাকুমার হাতের নলেন গুড়ের পায়েস রান্না
শীতকে কেন যেন আরও মোহময়ী করে তোলে।
দুপাশে আকাশচুম্বী বাড়ি,আজ ফ্ল্যাটবন্দী জীবনে
ঠাকুমার কথা মনে পড়লে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে।
যেখানে বিদ্যুতের আলো ছিলনা, পাখা ছিলনা,
অনেককিছু না থাকার মধ্যেও অনেককিছু ছিল।
ঠাকুমার স্নেহ ও ভালবাসা শীত বসন্ত মিলেমিশে
একাকার হয়ে যায় আমার গাড়িঘোড়ার জীবনে।
অসংখ্য মানুষ আর আমার যানবাহনের জীবনে,
শব্দ ও শব্দের মিছিলে যেন হারিয়ে যায় বারবার।
জনারণ্যে, মানুষের ভিড়ে হাঁটাচলায় দমবন্ধ হয়,
পূবের হিমশীতল ছোঁয়ায়,বিকেলটা গল্প শোনায়,
ঠাকুমার হাতের স্পর্শে যেন মায়া লুকিয়ে থাকতো
গল্পের বিকেলটা পুরো ঠাকুমাকে দিয়ে দিলাম।
লক্ষ্মীছাড়া সুখ এখন মুঠোবন্দী সবার জীবনেই,
সময়ের অ্যাকুরিয়ামে রঙিন মাছেরা খেলা করে।
হাজার হিসাবে, সংসারের সব দেনাপাওনা শোধ।
জীবনের জটিলতায় কয়েক ফোঁটা শিশিরবিন্দু
ভোরবেলায়, ঠাকুমার হাতের স্পর্শ মনে হলো।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *