আমাদের সংসার

মৌসুমী মন্ডল (কলকাতা)

বর- সকাল থেকে মনমরা হয়ে
বসে আছো। কি হয়েছে বলবে কি?

আমি~ ভালো লাগছে না তাই।

বর- আরে কী হয়েছে বলবে তো!কেন ভালো লাগছে না সেটাই তো জানতে চাইছি।

আমি~ ঘোড়ার ডিম হয়েছে।

বর- ওমা তাই! বলো কী! কবে হলো? আমাদের বাড়ির আশেপাশে তো কোনো ঘোড়া নেই তুমি ঠিক কোথায় দেখেছো আমাকেও একটু দেখাবে প্লিজ! আমি জীবনে কোনোদিনও ঘোড়ার ডিম চোখে দেখি নি।

আমি~ উফফ অসহ্য তুমি একটা। আমি বলে মরে যাচ্ছি আর তুমি মজা নিচ্ছ তাই না!

বর- হে ভগবান তুমি মরবে আর সেইটা নিয়ে আমি মজা নেব এটা বলতে পারলে তুমি?

আমি~ জাস্ট শাট আপ। আমার কিন্তু সব জানা আছে ভালো করেই বুঝলে! সব সময় তো বলতেই থাকো আমি নাকি তোমাকে জ্বালাই, ঝগড়া করি,আমি না থাকলে তুমি ভালো থাকো, আরো কত কি ।

বর- আরে ধুর কি যে বলো না! ওসব তো এমনি এমনি বলি। সেই সব ঝগড়াও খুব মিষ্টি লাগে আমার।

আমি~ আচ্ছা তাই! জানতাম না ।সেটা আজকে জানলাম।

বর–বাই দ্যা ওয়ে ঠিক আছো তো তুমি? জ্বর টর আসে নি তো! দেখিতো কপালে হাত দিয়ে দেখি।

আমি- আরে না না আমি একদম ঠিক আছি ।

বর- এবার বলো কী হয়ছে তোমার? কাশছো কেন খুকখুক করে? আবার নাকও টানছো। জ্বর-মাথা ব্যথা আছে নাকি? দেখি মাথা টিপে দিই।

আমি~ থাক লাগবে না এত আলগা পিরিত দেখানো। আর আমার গলা ব্যথা করছে মাথা না।

বর- এসো একটু গলা টিপে দেই।

আমি~ কি! কি বললে তুমি?

বর- ওহ স্যরি স্যরি ভুল করে বলে ফেলেছি। ঠিকমত শুনিনি আসলে।

আমি~ হ্যাঁ তা শুনবে ক্যানো! আমার কথা শোনার তো দরকার নেই তোমার।

বর- আরে বাবা ভুল হয়ছে বললাম তো। একটু আদা-চা করে নিয়ে আসি।গরম জল করে দিচ্ছি ,গার্গল করে নাও।

আমি~ হঠাৎ এত্ত দরদ উথলে উঠছে ক্যানো? আর ঘরে চা পাতা নেই। তোমার আসল মতলবটা কী বলো তো?

বর- না ইয়ে মানে কোনো মতলব নেই তো।

আমি~ অবশ্যই আছে, তোমাকে আমার খুব ভালো করে চেনা আছে বুঝছো। এসব করা বাদ দিয়ে সরাসরি পয়েন্টে এসো।

বর- মানে হয়েছে কি কালকে খুব পছন্দ করে মেলা থেকে যে শো-পিসটা নিয়ে এসেছো ওটা একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে গিয়ে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। তবে বেশি না মাত্র ছয় টুকরো হয়েছে।

আমি~ কালকে আনতে না আনতেই আজকেই ভেঙে ফেললে? অন্তত কয়েকটা দিন যেতে দিতে!আর এতবার দেখারই কি আছে!

বর- রাগ করে না সোনা।আবার কিনে এনে দেব।

আমি~ ওটা এক পিসই ছিলো। চোখে কী কম দেখেছিলে কাল?আর ওসব সোনা ধোনা বলবে না আমাকে।

বর- আহা! এত চিল্লায় না গলা ব্যথা আরো বাড়বে তো।

আমি~ বাড়ুক আগে বলো কেন ভাঙ্গলে তুমি? তোমাকে কতদিন বলছি সাবধানে দেখবে। এর আগেও এমন করছো তুমি।

বর- ঐ দেখো তোমার মাথার উপর কি ওটা দেখো দেখো।

আমি~ পালিয়ে যাবে কোথায়! যাও আজকে ঘরে ঢুকতে দেবো না তোমাকে।বদমাশ কোথাকার।
.
.
.
সেই থেকে আমি শো-পিসের ভাঙা ছয় টুকরো হাতে নিয়ে মনমরা হয়ে খুকখুক করে কেশেই চলেছি আর ঐদিকে কিছুক্ষণ পর বর বাবাজী চা পাতা আর কাশির সিরাপ আর আমার খুব প্রিয় lays এর প্যাকেট হাতে নিয়ে বাড়ির দরজার এসে ভয়ে ভয়ে কলিংবেলটার দিকে তাকিয়ে আছে।
টিং
টং
সাত পাঁচ না ভেবে এবার বেলটা বাজিয়েই দিলো।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *