রাকা ভট্টাচার্য্য (কলকাতা)

শরতের প্রথম শিশিরে স্নান সেরে শিউলির
ঝরে পড়া তর্পনে রোজনামা দর্পন ধরেছিল
মেয়ে, চুল বেয়ে নেমেছিল গত জন্মের অপাপবিদ্ধ
কস্তুরী ঘ্রাণ, তবু মেয়ে ফুল ভালোবেসে কোমল
গান্ধারে ধুন রেখে গেয়েছিল জীবনের গান।
দুলে উঠেছিল হৃদপিণ্ড, কামধেনু সুর বয়ে গেছে শিরায় শিরায়।শিরা ছিঁড়ে গেলে রক্তের নদীতে বিশুদ্ধ পদ্মনালে ধ্যানে বসে মেয়ে। সিরাজ কিম্বা শাহজাহান
এর আসার কথা ছিল দীঘি পাড়ে দক্ষিণের পাড়ায়।
একটা দুঃখরাঙা গোধূলি পাহাড় পার হলেই
গভীর গিরিখাতের মত পাওয়া যায় মেয়েটিকে
তার ঊর্ণনাভ গর্ভে লয়,প্রলয়। মুখর বেদেনী স্তনে ঠোঁট ডোবালেই পরাজিত মৃত্যু। যম ফিরে যায় জীবনের স্নেহশীল কোলে।
তবু, দুঃখ পাহাড় কেউ পারেনি পেরোতে, কেউ পারেনি আজও পদ্ম বুকের সুখের ঘাটে গঙ্গা গঙ্গা পবিত্র ডুবে যেতে। পারেনি শরিরী শবের সুচারু বক্ষ ভাঁজে
এঁকে দিতে একটা দুটো তুলসী পত্র।
একটা আলপনা আঁকা মাটির কলসী
একা একা একতারা সুরে ভেসে যাচ্ছে ধীরে
দূরে… আরো দূরে …
বয়ে চলা ছন্দিত স্রোতটা পুরুষ
আর , দোল লাগা পূর্ণচাঁদ কলসটি
আমি-ই সেই মেয়ে।