অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান -:
ছিল ‘শিশুদিবস’, আসানসোলের সুপরিচিত নর্থ পয়েণ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সৌজন্যে কার্যত সেটাই পরিণত হলো বার্ষিক সাংস্কৃতিক উৎসবে। দীর্ঘদিন ধরেই স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর জন্মদিন অর্থাৎ ১৪ ই নভেম্বর দিনটি ‘শিশুদিবস’ হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটলনা। সমগ্র রাজ্যের সঙ্গে আসানসোলের সুপরিচিত নর্থ পয়েণ্ট স্কুল প্রাঙ্গনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দু’দিন ব্যাপী শিশুদিবস দিনটি পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুটা হয়েছিল ‘ইনভেস্টিচার সেরিমনি’ দিয়ে। নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে নবনির্বাচিত ছাত্র নেতা সহ অন্যান্য কাউন্সিল সদস্যদের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। তাদের ব্যাজ, প্রতীক ও শ্যাফ প্রদান পরিয়ে সম্মানিত করা হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা তরুণ নেতৃত্বকে দায়িত্ব, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার বিষয়ে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দেন।
এরপরই শুরু হয় ‘ফেস্ট’ এর মূল অনুষ্ঠান। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের উদ্যোগে ফুড স্টল, গেম স্টল সহ নানান ধরনের স্টলে সাজানো হয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। ফুড স্টলে ছিল বিভিন্ন স্বাদের ও বিভিন্ন রকমের স্ন্যাকস, কেক, পানীয় ইত্যাদি। অন্যদিকে বাচ্চাদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণের গেম স্টলে ছিল টার্গেট টুইস্ট, ডাইস ফিয়েস্তা, স্পিন দ্য হুইল, উইন দ্য চকোলেটস, ডার্ট বেলুন গেম ইত্যাদি। শুধু বাচ্চাদের নয় অভিভাবকদের ভিড় ছিল সেখানে। দিনের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ ছিল ম্যাজিক শো যা উৎসবকে সবার কাছে আরও বেশি রঙিন করে তোলে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ক্ষুদে ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থিত দর্শকদের যথেষ্ট আনন্দ দেয়। দু’দিন ব্যাপী পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল ঐক্য, আনন্দ ও উদযাপনের চমৎকার প্রতিফলন। ফেস্ট উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ছিল উৎসবের রঙ, হাসি-আনন্দ আর শিশুদের কোলাহল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা তথা চেয়ারম্যান শচীন্দ্র নাথ রায়, ডিরেক্টর মিতা রায়, বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রাজীব শ’, দুর্গাপুর এমএমসি মডার্ন হাইস্কুলের অধ্যক্ষ তরুণ ভট্টাচার্য্য, জামুরিয়া ট্রাফিকের ওসি সুবীর সেন সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে শেষে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রাজীব শ’। বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সকল সদস্য, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও সকল কর্মীর প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠাকে তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করেন।
প্রসঙ্গত, শুধু বোর্ডের পরীক্ষায় নয় বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাফল্য যথেষ্ট প্রশংসনীয়।
