আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে পুজো উদ্যোক্তাদের সাথে বৈঠক ও চেক প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলো রবীন্দ্র ভবনে 

কাজল মিত্র: আসানসোল:- আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই শহর জুড়ে শুরু হবে দুর্গাপুজোর উৎসব। সেই ভিড় সামলানো থেকে শুরু করে প্যান্ডেল, ট্রাফিক ও নিরাপত্তা সবকিছু যাতে নির্বিঘ্নে হয়, তার জন্য বড়সড় প্রস্তুতিতে নেমেছে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট ও জেলা প্রশাসন ।সেই মত আসানসোল মহকুমা এলাকায় সমস্ত পূজো কমিটি দের নিয়ে আসানসোলের রবীন্দ্র ভবন প্রেক্ষাগৃহে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়। 

এদিনের বৈঠকে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক তথা ডিএম এস পোন্নাবলম ও আসানসোল দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী, আসানসোলের মহকুমাশাসক (সদর) বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য সহ পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন এই বৈঠকে জানানো হয় যে আদালতের নির্দেশিকা মানা, চাঁদা আদায়ের নিয়ম, প্যান্ডেল নির্মাণে বিধিনিষেধ, শব্দদূষণ, প্রতিমা বিসর্জনের সময়সূচি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে । দুর্গাপুজোর সময় প্রতিবছর ভিড় নিয়ন্ত্রণ, গাড়ি চলাচল, শব্দদূষণ ও চাঁদা সংক্রান্ত অভিযোগ প্রশাসনের কাছে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এ বছর থেকেই অনলাইন পারমিট প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা হয়েছে। উদ্যোক্তারা যেন শেষ মুহূর্তে জটিলতায় না পড়েন, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার উদ্যোক্তাদের জানিয়েছেন, আইন বা আদালতের নির্দেশিকা অমান্য করলে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে তিনি উৎসব শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেবেন।

পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী সব পূজা কমিটির কাছে আবেদন করে বলেন, সব পূজো প্যান্ডেলে পর্যাপ্ত পুলিশ দেওয়া সম্বভব নয়। তাই প্রত্যেক পূজো কমিটিকে বেশি করে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে। তারা দর্শক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করবে। তাছাড়া সাতটা সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। প্যান্ডেলে বিদ্যুৎ সংযোগ ঠিকমতো করতে হবে। মনে রাখতে হবে বেশীরভাগ দূর্ঘটনা বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে হয়ে থাক। 

এই বছর ১২৩০ টি পূজেকে অনুদান দেওয়া হবে। তাছাড়া প্রশাসন থেকে আরো ১০০ টা অতিরিক্ত পূজো কমিটির নামের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

জেলাশাসক বলেন, পুজো প্যান্ডেলে সরকারি কয়েকটা দপ্তরের স্টল করা হবে। যারমধ্যে স্বাস্থ্য দপ্তরের স্টল করতে হবে। তারা বিভিন্ন প্রকল্পের প্রচার করবে। পূজো প্যান্ডেলে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিশেষ করে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সঠিক ব্যবহার জানা টেকনিশিয়ান রাখতে হবে। যাতে কোন ধরনের সমস্যা হলে তা সামলানো যায়।

এদিন নয়টি পূজো কমিটির সদস্যদের রাজ্য সরকারের অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। আগামী এক দুই দিনের মধ্যে বাকি পূজো কমিটির সদস্যদেরও এই চেক দেওয়া হবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *