উদ্‌যাপন

মিতি হালদার (কলকাতা)

আজ শ্রাবণের গুঞ্জনে ভিজে যায় আমার রিক্ত শহর,
একাকীত্বের জানালায় বসে চোখ বুঁজে আসে তন্দ্রায়।
মনের বর্ণহীন শ্যাওলায় রক্তিম রঞ্জক লাগে অকারণ,
তাই নিজেকে আরো সাজাতে রক্তাক্ত করি নিজের শরীর।
শূন্যতার প্রতিটি স্তরে স্তরে আরো একটি শূন্য জুড়ে দিয়ে-
গুছিয়ে রাখি বুকের লজ্জা-আঁচল আড়ালে অতি সন্তর্পণে।
ভূতাত্ত্বিক যুগের কোন জীবাশ্মের প্রাণ প্রতিষ্ঠায় জ্বলে ওঠে-
কিছু ছাই চাপা আগুন, আহুতিতে এক ফোঁটা চোখের জল।
বিছানায় আজও ছড়িয়ে থাকে শুকনো ফুলের পাপড়িরা।
ধূপ দ্বীপের ঘন ধোঁয়ার সুগন্ধিত মাদকতা দূর করার-
ব্যর্থ প্রচেষ্টাদের প্রশ্ন করে অসংখ্য স্মৃতির সূক্ষ্মতা।
আমার ভেজা চুলে আদর মাখাতে যে হাত আসে এগিয়ে
সেখানে লেপ্টে থাকে তোমার আদিম বুনো গন্ধ,হে প্রাক্তন।

তুমি হয়তো জানো না টেবিলে জমে থাকা ধুলোর চাদরে সাজানো
ফুলদানির মতো আমি ছিলাম নিতান্তই অহেতুক এক অস্তিত্ব।
আমি ছিলাম ঘরের স্যাঁতসেঁতে এক কোনায় পড়ে থাকা
আসবাবের মতো পুরাতনের সাক্ষ্য হয়ে দীর্ঘ উপেক্ষিত।
আমি ছিলাম ক্লান্তির ছাপ লুকিয়ে রাখার অদম্য চেষ্টা, কাজলের কালিমা।
আমি ছিলাম নিস্তব্ধতার বুক আড়াআড়ি চিরে ফেলার ইচ্ছেনদী।
জমাট বাঁধা অভিমানী ভালোবাসার চিঠির শেষ চন্দ্রবিন্দু।
আমি রূপ রস গন্ধ স্পর্শে নারী হয়েছি যখন তুমি হয়েছো পুরুষ,
আমি যখন প্রেমিকার চুম্বনের চুম্বকত্ব তুমি তখন হয়েছো প্রেমিক।

জানি, ফিরে আসার পথের ঠিকানা হারিয়েছে কালের ব্ল্যাকহোলে।
তবুও যদি অপ্রয়োজনেও প্রয়োজন হয় আমার,
অগ্নিকে সাক্ষী রেখে
একঘেয়ে কোন ঋতুর মাঝে আসবো কাছাকাছি, তুমি আর আমি।
কিছু মুহূর্ত নীরবতা পালন করে উদ্‌যাপন করবো
আমাদের মৃত ভালোবাসা।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *