প্রবীর কুমার চৌধুরী (গড়িয়া, কলকাতা)

তুই আছিস বলেই তো এত ভালোবাসা আছে,বাঁচার ইচ্ছা আছে।
তুই আছিস বলেই তো সাজাই ঘর,তোকে ঘিরেই আমার আপন-পর।
নিত্য ভোরের রবি -দুচোখের ক্যানভাসে ছড়ায়
নানারঙের ছবি,
এসব নিয়েই তো আমি আজও জয়-পরাজয়ের কবি।
কে বলে তুই নেই,চোখ মেললেই সবখানেতেই স্মৃতি থরে-থরে,তাতেই সুখবোধ,
জানলা খুলে চোখ মেলে চাই – ,দেখি তোর কাঁকন ভরা নিরেট রোদ।
আজও ঘর দুয়ারে সাজিয়ে রাখি তোর ভাগেরটা,
তোর পুজোর কাপড়,আলতা-সিঁদুর, সাক্ষী আলমারিটা।
ঝুলঝাড়ি ভুল মুখ ঝামটা, আরশিতে অবয়ব তোর-
তোর ছবিটা বুকে করেই আসে নতুন ভোর।
দিনের শুরু ছুটতে থাকি ,বকতে থাকি,দেখি সবখানেতেই তুই –
বাজার পথে ফিরতি চোখে দুঃসহ বিস্মৃত হই।
প্রখর রোদ, দারুন বহ্নি,,তারপর গোধূলির ছোঁয়া লাগে
মনে পড়ে মিলন বাসরের ফুলেল প্রেম,অতীত হটাৎ জাগে।
আজও তোর সেতারে হাত ছোঁয়ালেই তুই যেন রেগে উঠিস,
মানিস না মানিস ,আমার ইচ্ছে ডানায় ভর করে তুই থাকিস।
এখন সাজিয়ে রাখিস নতুন ঘর ? তোর নতুন সংসার?
তার বুকে ঝাঁপিয়ে পরিস যা তোর চিরকেলে অলংকার?
আমার জীবন খাতায় ,ছেঁড়া পাতায় চিরকালের দারিদ্রের ঈশ্বর।
আমার কেটেছে বেলা,তোর অবহেলা,মন্দ্রাকান্তা কবিতায়,
এখন ছুটির ঈশ্বর এক ছুটিতেই সাজান ভিন্ন স্বাদের মাত্রায়।
আমার সকল পাওয়ার পরশ মেখে থাকিস জীবন
সারল্যে,
আজ বাঁধন ছিঁড়ে,অন্য সুরে- গান ধরেছি জনঅরণ্যে?
তোর পরান বীণায় সুর ভেসে যাক,মুছুক অতীত মলিনতা –
এই চাওয়াটুকু পূর্ণ হোক-আমার এইতো দেখার ব্যগ্রতা।
জানি তুই আছিস বলেই প্রেম কথা বলে,পাখিরা গান গায় , দৃষ্টি ডানা মেলে নীল-নীলিমায়,
জ্যোৎস্না দেয় আলো,মধুরাতের হাতছানি মায়ায়, মায়ায়।
তোর পরশখানি বুকে রেখেই ভুলে আছি অতৃপ্তির যন্ত্রনা-
তোর যাওয়া-আসার পথে পথেই আমার পুনঃ ফেরার কল্পনা।
সব কিছুই সরে যায় , মুছে যায়,বুঝেছি আপনার কিছুই নাইরে,
জীবনের খেলাঘরে,কত কথা মনে পরে,পাষান চাপাই অন্তরে।