ও তাহলে কে? ওর পরিচয়?

শিবানী চক্রবর্তী (শ্রীরামপুর, হুগলী)

পাহাড়ি এলাকায় শীতের
সন্ধ্যায়।
বাংলো থেকে যখন বেরোচ্ছি রাস্তায় হাঁটা পথ, পাইন গাছগুলোর ফাঁকে ফাঁকে সাদা কুয়াশার চাদর জমাট বাঁধছে চারিপাশে।
হেঁটে যেতে যেতে হঠাৎ নজর পড়ল বেশ খানিক দুরে একটি মেয়ে তাকিয়ে এক নজরে, আমি ভাবলাম হয়তো আমারই মত ট্যুরেতে এসেছে বাইরে বেরিয়েছে। ১৫ থেকে জোর ২০ বছর বয়স, হবে, বাংলোতে ফেরার পথে যেন মনে হচ্ছে কেউ পিছে অনুসরণ করছে।
কানে একটা ছমছম আওয়াজ । স্পষ্ট শুনতে পেলাম, ভাবলাম নিশ্চয়ই কোন কাছে পিঠে বাংলোতে কোন পর্যটক মেয়েরা দল বেঁধে
ওয়ার্ডেন-কে লুকিয়ে বেরিয়ে পড়েছে গান গাইবে গলা ছেড়ে চেঁচাবে এ ওর পেছনে লাগবে এ হতে পারে।।
এইসব ভাবতে ভাবতে চড়াই ভেঙেই চলেছি।
আবারও, কানে নুপুরের ছমছম আওয়াজ , তখন আমি থমকে দাঁড়ালাম ভালো করে এদিক ওদিক তাকালাম, ওই সেই মেয়ে মায়া ভরা চোখ আড় চোখে তাকিয়ে মুচকি হাসছে। পাহাড়ের গায়ে সুন্দর আলোর, প্রকাশ ফুটে উঠেছে, হঠাৎ যেন পিছুটান ধরছে,
ভাবছি ও কে? একা দেখছি, কেন? আমার যেন ধাঁধা লেগে যাচ্ছে
সামনে দেখি ঠিক খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। এবার আমার গায়ে কাঁটা দিল ,কেমন যেন হয়ে গেলাম আমি। আমার এবার বাংলোতে ফেরার আগ্রহটা বাড়লো । যখনই মোড় ঘুরে ব্যাক করলাম, ঠিক পর মুহূর্তে আমার সামনে ছমছম আওয়াজ আবারও স্পষ্ট দেখলাম মেয়েটিকে। ধুস আমি কি ধাঁধা দেখছি? ভুল ভাবছি? বড্ড ক্লান্ত লাগছে, শরীরে ঘাম হচ্ছে, সামনে একটি চায়ের দোকান, গিয়ে বসলাম বললাম দাদা, আমায় এক কাপ চা দিন তো, সবে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে এক চুমুক দিলাম, মুখ তুললাম ওই মেয়েটি দোকানে সাইডে বেঞ্চে বসে আছে আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি চোখ হাসছে, তৎক্ষণাৎ আমি উঠে দাঁড়ালাম বেশ হলো তো ও তাহলে কে? কোন প্রেতাত্মা? আমার পিছু ছাড়ছে না তো জীবিত হলে তো কথা বলতো? না বাংলাতে ফেরা যাক। গেটে ঢুকলাম আবার নজর পড়লো সেই মেয়েটি গেটের দরজায় দুদিকে হাত দিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমার দিকে। আমি যেন অন্য কোন লোকে বাস করছি, হঠাৎ বাহাদুরের ডাকে আমি স্তম্ভিত হলাম, সাহেব, ডর্ নেহি বাবু। ও কাউকে কিছু বলে না আসে যায় কারোর ক্ষতি করে না এখানে ফ্যামিলি ট্যুরে বাবা মা ভাইয়ের সাথে এসেছিল, ওই খাদে পড়ে মারা যায় এক্সিডেন্টে।
বাবা মা ভাই ওকে রেখে বাড়ি ফিরল ,ও এখানে রয়ে গেল, ফিরতে পারেনি এখনো ওভাবে আমায় নিয়ে যাবে এখানে আসে আর খাদের ধারে ঘোরাফেরা করে। আর এই জীবনে টওর বাড়ি ফেরা হলো না। তাই এই পরিচয় তার শেষ পরিচয়।

শিবানী চক্রবর্তী (শ্রীরামপুর, হুগলী)

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *