কবি হতে পারিনি

মৌসুমী মুখার্জী (খড়গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর)

না আর কোনো প্রতিযোগিতা নয়……
শব্দ সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করি কী করে আমার অনুভব!!
মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়তে দাও খোলা আকাশে
অদম্য মনের ভাব প্রকাশ করতে,
হোঁচট খাই আখরের চৌকাঠে, নির্লিপ্ত কণ্ঠেই প্রতিবাদ।
ভাবি একমনে, কী ‌দীনতা, হিংস্রতা, অসহিষ্ণুতা চারিপাশ,
কবিতার সাথেই হাঁটি, পা পা করে….
খুঁজে বেড়াই নতুন শব্দ,
অনুভবের দোলায় যা আসে বরণ করে নিই।
বানান ভুল বা কিছু ভুল শুধরে দেয় সুহৃদ যারা… সত্যিই ভালো যে বা যারা চায়।
কবি আমি নই, অহেতুক টানা পোড়েন,
হিঁচড়ে দশ বারো ষোলো…
প্রতিযোগিতা ভীষণ বোরিং,
আমি লিখি মন যা বলে,
সমুদ্রের তলা খুঁড়ে নুড়ি পাথর জমা করি কলমের ডগে,
কখনো পাহাড়ের বুক চিরে অনুরণন থরে থরে সাজাই।
কখনো শান্ত নদীর মত উচ্ছল বর্ষার জলে পুষ্ট স্রোতস্বীনি দেখি দুচোখ ভরে,
কত শত পরিবার কত অভিযোগ অবহেলা উন্মাদনা।
অভাবী মানুষগুলো সেই বাটি নিয়ে, ছেঁড়া পোশাকে, ডাস্টবিন হাতড়ে,
ভেবেছিলাম তাদের কথা লিখবো,
ডেনড্রাইট নেশাখোর কিছু বখে যাওয়াদের কথা….
কী হবে রংচঙে সেজে গুজে প্রকাশকের ঠিকানা খুঁজে।
সাজঘর, শাড়ি গয়না পত্রিকা কেনা…. নয় নয় করে সেই সাপ্তাহিক সাত আট-হাজারী।
সম্ভব নয় তবুও অসম্ভব কে সম্ভব করাটাই কী কবিত্ব…….
বুঝি না বাপু,
মন বলে,” দিস না সায় সব কথাতেই, তোর ইতিহাস অতীত ভবিষ্যৎ কেউ কী জানে!!!
অপচয়, অনাচার দেশ জুড়ে পাপের আগার।
মুক্তি খুঁজে নে শুপ্তির বুকে মুক্তো, ঝুটা নয় সাচ মুক্তো হয়ে ওঠ”।
অপারগ বা সক্ষম যাই হই না কেন মানসিক শারীরিক ও আর্থিক,
আমার বইয়ে ধুলোর আস্তরণ চাই না।
ঊর্ণনাভের জাল বিস্তারই কাজ শিকারের সন্ধানে,
সাহসী শিকার তো জাল কেটে বেরিয়ে আসবেই।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *