ক্ষনস্থায়ি সুবিধার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি; মাত্র তিন দিনে সমগ্র জোন জুড়ে বারোটি অবৈধ রেল পারাপারের পথ সিল করল পূর্ব রেল

ক্ষনস্থায়ি সুবিধার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি; মাত্র তিন দিনে সমগ্র জোন জুড়ে বারোটি অবৈধ রেল পারাপারের পথ সিল করল পূর্ব রেল

পূর্ব রেল/প্রেস বিজ্ঞপ্তি: 2026/02/ 54

কলকাতা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:

পরিচালনগত নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং রেললাইন দিয়ে অবৈধ পারাপারের চিরস্থায়ী উপদ্রব দমন করার লক্ষ্যে এক নির্ণায়ক পদক্ষেপ গ্রহণ করে পূর্ব রেল ১২টি চিহ্নিত অবৈধ পারাপার পথ সফলভাবে সিল করে দাওয়ার মাধ্যমে । ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এর মধ্যে নেওয়া এই উদ্যোগটি “নিরাপত্তাই প্রথম” (Safety First) নীতির প্রতি জোনের অবিচল অঙ্গীকার এবং জনগণের জীবন রক্ষায় তাদের উৎসর্গকেই প্রতিফলিত করে।

লৌহপথের ভয়াবহতা:

রেললাইনে অনুপ্রবেশ বা অবৈধ পারাপার আজও রেল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিরোধযোগ্য প্রাণহানির একটি অন্যতম কারণ। একটি চলমান ট্রেনের সাধারণ নিয়ম এটাই বলে যে, জরুরি ব্রেক কষার পরেও একটি লোকোমোটিভ সম্পূর্ণ থামতে কয়েকশ মিটার পথ অতিক্রম করে। একজন পথচারীর ক্ষেত্রে ট্রেনের গতিবেগ সম্পর্কে ভুল ধারণা বা দ্রুতগামী ট্রেনের দ্বারা সৃষ্ট ‘সাকশন ইফেক্ট’ (টান) কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রাণঘাতী হতে পারে। ট্র্যাজিক জীবনহানি ছাড়াও, এই অবৈধ পারাপার ট্রেন চলাচলের সময়ানুবর্তিতায় বিঘ্ন ঘটায় এবং পরিকাঠামোর ক্ষতি করে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে সবচেয়ে মূল্যবান হলো একটি জীবন।

সক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা:

পূর্ব রেল সর্বদা তার যাত্রী এবং রেললাইনের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের একটি বর্ধিত পরিবারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। তাঁদের মঙ্গল নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিরলসভাবে ঝুঁকিপূর্ণ “সফট স্পট” বা দুর্বল স্থানগুলো চিহ্নিত করার কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এই অভিযানে ভারী ভার্টিক্যাল স্লিপার এবং উন্নত রেল ওয়েল্ডিং ব্যবহারের মাধ্যমে স্থায়ী কাঠামোগত হস্তক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই শক্তিশালী প্রতিবন্ধকগুলি পথচারীদের নির্দিষ্ট ফুট ওভারব্রিজ এবং সাবওয়ের দিকে পরিচালিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

পরিকাঠামো সুদৃঢ়করণের বিবরণ:

অননুমোদিত প্রবেশ রোধ এবং পরিচালনগত সুরক্ষা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উচ্চ-অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেকশনে এই বিশেষ পরিকাঠামো সুদৃঢ়করণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মোট ১২টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্থান স্থায়ীভাবে সিল করা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বাধিক কাজ হয়েছে সিতারামপুর – জসিডি সেকশনে (৫টি স্থান)। এরপর সফলভাবে সিল করা হয়েছে দেওঘর – দুমকা (৩টি স্থান) এবং জসিডি – ঝাঝা (৩টি স্থান) সেকশন। এছাড়াও, মধুপুর – গিরিডি অংশে ১টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও স্থায়ীভাবে সিল করা হয়েছে। ভার্টিক্যাল স্লিপার এবং রেল ওয়েল্ডিংয়ের মতো মজবুত উপকরণ ব্যবহার করে পূর্ব রেল নিশ্চিত করেছে যে, পূর্বের অরক্ষিত স্থানগুলো এখন শক্তিশালী প্রতিবন্ধকে পরিণত হয়েছে, যা রেল এবং স্থানীয় জনগণ—উভয়কেই কার্যকরভাবে রক্ষা করবে।
এই নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে পূর্ব রেল সুনিশ্চিত করছে যে, এই “লৌহপথ” যেন দ্রুত ও নিরাপদ যাতায়াতের করিডোর হিসেবেই থাকে। রেল ওয়েল্ডিংয়ের ব্যবহার এই প্রতিবন্ধকগুলির দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করে এবং এগুলিকে যে কোনও প্রকার ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে।

জনসহযোগিতার আহ্বান:

পূর্ব রেল যখন প্রকৌশলগত সমাধানের পেছনে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে, তখন দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ঢাল হলো জনসচেতনতা। রেল প্রশাসন সাধারণ মানুষকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, রেললাইন পার হওয়ার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত পথ (Shortcut) গ্রহণ করা আসলে নিজের জীবন নিয়ে জুয়া খেলার সামিল। পূর্ব রেল প্রতিটি বিপদজনক অঞ্চল ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে, কিন্তু নিরাপত্তা একটি সম্মিলিত দায়িত্ব।
যাত্রীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ—দয়া করে ফুট ওভারব্রিজ (FOB) এবং অনুমোদিত পারাপার পথ ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, কয়েক মিনিটের অতিরিক্ত হাঁটা আপনার নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানো এবং একটি আজীবন ট্র্যাজেডির মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। পূর্ব রেল একটি নিরাপদ যাত্রা প্রদানের মিশনে অবিচল রয়েছে, তবে এই অনুপ্রবেশের চক্র বন্ধ করতে আমরা আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি। আপনার জীবন অতিব মূল্য; একটি শর্টকাটের জন্য তা হারাবেন না।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *