খোলা চিঠি

রাণু মজুমদার (ব্যাঙ্গালোর)

শ্রদ্ধেয় বুবু,

      তুমি কেমন আছো? খুব জানতে ইচ্ছে করে। তারার দেশে ভালো আছো তো ? জানি না তারার দেশ থেকে আমাদের দেখতে পাও কি না!! 

             ভীষন অসময়ে চলে গেলে ….. সারাজীবন শুধু খেটে গেলে ঘর সংসার ,ছেলেমেয়ে মানুষ করা তাদের সংসারী করা কিন্তু যখন তোমার আরাম করার পালা তখন তুমি চিরতরে আরামে চিরনিদ্রায় শায়িত হলে।

         জানো বুবু তুমি চলে যাওয়াতে সব কেমন এলোমেলো হয়ে গেল…. তুমি থাকাকালীন সব  ঠিক ছিল। তোমার চলে যাওয়ার পর পরই আমার জীবনে ঝড় উঠলো। তবে সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমার আশীর্বাদে আমি তো মোকাবিলা করতে লাগলাম কিন্তু….মা !!! 

         মায়ের জীবন টাও এক দমকা হাওয়ায় সব পাল্টে গেল। তুমি বলতে “ এইরকম বোকাসোকা গেঁয়ো ভূত হয়ে থেকো না…. সংসারের হাল ধরো, সবরকম পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে শেখো …. নিজের অধিকার বুঝতে শেখো “ কিন্তু মা এক কানে শুনে অন্য কান দিয়ে বার করে নিজের ঠাকুর দেবতা সাজাতেই ব্যস্ত থাকতো । ভাবতো তুমি শুধু শুধু খ্যাচখ্যাচ করছো , মিছিমিছি ভয় পাচ্ছো । তুমি আরো বলতে “ নিজের ভালো টা যদি বুঝতে না শেখো পর ভরসায় থাকো আমি যখন থাকবো না তোমার দূর্দশার শেষ থাকবে না ….তুমি ভীষন চুপচাপ গম্ভীর,রাগী প্রকৃতির হলেও ভীষন দূরদর্শী ছিলে। 

     সত্যি বুবু তোমার কথা আজ অক্ষরে অক্ষরে ফলেছে। তুমি চলে যাওয়াতে মা টুকরো টুকরো হয়ে গেছে…আর এখন তো মানসিক ভাবেও বিপর্যস্ত 

কি বলে কি করে কিছুই গুছিয়ে বুঝিয়ে বলতে পারে না । এক কথা বলতে গিয়ে খেই হারিয়ে অন্য কথায় চলে যায়।

     তুমি চলে যাওয়াতে  সব বদলে গেছে বুবু…..সব এলোমেলো হয়ে গেছে। তুমি ছিলে বটবৃক্ষ যার ছায়ায় আমরা নিশ্চিন্তে ছিলাম। 

তুমি নেই ….. তুমি নেই এটা আজও মেনে নিতে পারছি না বুবু।

আজ আর তোমার ঠিকানা আমার কাছে নেই…..এই খোলা চিঠি মেঘের হাতে পাঠিয়ে দিলাম দূর আকাশে, উড়বে বাতাসে…. হয়তো পড়বে গিয়ে কোন সমুদ্রে ….. ভেসে ভেসে ঠিক পৌঁছে যাবে ঈশ্বরের চরণে….. সেখান থেকে তোমার হাতে…..দেখবে খুলে চিঠি লিখেছে তোমার মানী।

  আশীর্বাদ করো জন্ম জন্মান্তরে তোমার মেয়ে হয়ে যেন তোমাকেই পাই বুবু। প্রনাম নিও….. ভালো থেকো যেথায় আছো।

                     ইতি

               তোমার মানী

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *