রিতা শ্রীমানী (আন্দুল, হাওড়া)

কি লিখবো আমি নিজেই জানিনা, জীবনে যে মুখোশধারী বাস্তবতা দেখতে হবে বুঝতে পারিনি। তুমি চলে গেছো তিন বছর হয়ে গেল। তুমি বলেছিলে বেশ কিছু পথ আমরা একসাথে হাঁটবো। হঠাৎ কাল বিপর্যয় সে তোমাকে নিয়ে চলে গেল। আমি একা রয়ে গেলাম, সবাই চার পাশে আছে, কিন্তু আমার ভিতরে একাকীত্ব রয়ে গেল। এখন ভাবি তুমি আমার প্রতি একটু কঠোর হতে পারতে। একটু অভাব বোধ জাগাতে ভালোবাসার। তাহলে এত কষ্ট হতো না। জানিনা আমার এই একার পথ চলা কত দিনে থামবে?
প্রত্যেক মানুষের মনের ভেতর কিছু কথা থেকে যায়। সেইটা বাইরে প্রকাশ করা দরকার।
মনে পড়ে যায় সেদিনের কথা খোলা ছাদে দুজনে সন্ধ্যাবেলা দুটো চেয়ারে বসে হাতে হাত রেখে তুমি বলেছিলে আমি একটু সুস্থ হই আমি আর তুমি বেড়াতে যাব আনন্দ করব আমার কিন্তু কিছুই ইচ্ছা ছিল না। শুধু তুমি যদি আমার কাছে থাকতে । জানো একদিন ছাদে দাঁড়িয়ে ছিলাম দেখলাম আমাদের বাড়ির সামনে রাস্তায় একটা গাড়ি এসে দাঁড়ালো গাড়িটা থেকে এক ভদ্রলোক বেরিয়ে কোথায় গেলেন, তারপর আবার এসে গাড়ির কাচ নামিয়ে ওনার স্ত্রীর সাথে হেসে হেসে কি কথা বলছিলেন । এই দৃশ্যটা দেখে আমার বুকের মধ্যে খুব কষ্ট হচ্ছিল তোমার কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল এটা হিংসা নয়, জানি না এটাকে কি বলে! তোমায় কত জানাবো জানো আমি বিধবা বলে ঠাকুর বরণ প্রথমে করতে পারিনা ,প্রথমে একজন সধবা মহিলা করবে।
তুমি জানো এগুলো খুব কষ্ট দেয় আমাকে তুমি না থাকার কারণ কত যন্ত্রণাদায়ক আর যতদিন এই ধরায় থাকবো ততদিন আরও তুমি বিহীন কত যন্ত্রণা কত কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে। তুমি চলে যাওয়ার পর এই প্রথম তোমাকে চিঠি লেখা ভালো থেকো তুমি পরপারে আমার জীবন সখা হয়ে আবার এসো পরজনমে আমারই কাছে তোমার আশায় থাকবো যে পথ চেয়ে।