অদিতি চক্রবর্তী (কলকাতা)

ভালোবাসা ঝুলিয়ে রেখো না আর,
এবার গায়ে পরো
এখন পলাশ ফোটা উদাস বসন্ত—
কাশি বাড়লে, এঁটে দিও বাড়তি বোতাম-ঘর ও।
মাপা আদরের ওমে যদি অস্বস্তি জাগে,
তবে না হয় খুলে রেখো একপাশে
যদি কোনো গোপন ক্ষত কিম্বা রোমশ ঠিকানায়–
সে ভালোবাসা কুটকুট করে বিষণ্ন আক্রোশে।
অবহেলা করো না সেই ওমটুকু,
‘গায়ে পড়া’ বলে হেসো না তুচ্ছতায়
সবাই কি আর এমন শক্ত বুনন পায়?
কতজন তো হিমশীতল শূন্যতা গুনে চলে যায়।
পুরোনো খামখেয়ালি যদি আলগা সুতোয় টানে,
ছিঁড়ে ফেলো সে সেলাই
বরং মালকোষে সুর তোলো ইচ্ছেধারী সানাই।
স্মৃতিরা তো নোনা ধরা পুরোনো দেওয়াল—
খসে পড়ে চুনকাম, একলা দাওয়ায়।
কতটা বসন্ত কেটে গেল অপেক্ষার ভুলে!
ধুলো জমে আছে অনাদরের কবিতায়।
ভালোবাসা— সেই ‘গায়ে পড়া’ ভালোবাসা—
ঝুলিয়ে রেখো না আর,
সকলেই কি এমন আশ্রয় পায়?
এসো, মাপসই করে নিই—
যেসব ইচ্ছে-বাড়ি জুড়ে একা একা থাকি
নইলে হাওয়ায় উড়বে ছাই, থেকে যাবে ফাঁকি।
জোর করে নয়, বরং বরণ করে নাও আজ—
ভালোবাসা নয় কোনো উচ্ছিষ্ট কারুকাজ।
আগলে রাখার অভ্যাসটুকু রপ্ত করতে হয়,
তবেই আটপৌরে জীবনটাও হতে পারে মহিমাময়।
