গুসকরায় তৃণমূলের ‘জনগর্জন’ সভা

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী: গুসকরা:-

দুর্নীতির অভিযোগে প্রথমে একশ দিনের কাজ প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ দেওয়া বন্ধ। একই অভিযোগে আবাস যোজনায় প্রাপ্য অর্থ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। দুর্নীতির তদন্তে একের পর এক কেন্দ্রীয় কমিটি রাজ্যে এলেও উদ্ভুত অভিযোগের কোনো সমাধান হয়নি। প্রাপ্য বরাদ্দের দাবিতে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত কেন্দ্র সরকারের কাছে চিঠি লেখেন। ফলাফল শূন্য। সেই পথ অনুসরণ করে একে একে রাস্তা সহ একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেরও বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাংলার প্রতি লাগাতার কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে এবং বহিরাগত অত্যাচারীদের বিসর্জনের অঙ্গীকার নিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আগামী ১০ ই মার্চ ডাক দেওয়া হয় ‘ব্রিগেড চলো’। ব্রিগেডের সভাকে সাফল্য মণ্ডিত করার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ডাক দেওয়া হয়েছে 'জনগর্জন সভা'। গুসকরা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে ১ লা মার্চ গুসকরা বারোয়ারি তলায় আয়োজিত হয় 'জনগর্জন সভা'।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো, পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অসিত মাল, স্থানীয় বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডার, পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভানেত্রী মল্লিকা চোংদার, জেলা পরিষদের সদস্যা অধ্যাপিকা অঞ্জনা মাহাতো, গুসকরা শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি দেবব্রত শ্যাম, পুরসভার সমস্ত ওয়ার্ডের কাউন্সিলার, ভাইস চেয়ারম্যান বেলী বেগম, চেয়ারম্যান কুশল মুখার্জ্জী সহ অসংখ্য তৃণমূল কর্মী। সভায় মহিলাদের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য। তাদের হাতে ছিল ‘লক্ষীর ভাণ্ডার’ লেখা প্লাকার্ড। বক্তব্য রাখতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ বাবু দাবি করেন এই রাজ্য থেকে মূলত দক্ষ শ্রমিকরা অন্য রাজ্যে কাজ করতে যায়। কিন্তু অন্য রাজ্য থেকে তার থেকে বেশি সংখ্যক মানুষ এই রাজ্যে কাজ করতে আসে। কেন্দ্র সরকারের কাছে তিনি আবাস যোজনা ও একশ দিনের বকেয়া অর্থ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার দাবি করেন। অন্যান্য বক্তারাও একই দাবি করেন এবং দলে দলে ব্রিগেড যাওয়ার জন্য জনগণের কাছে আহ্বান জানান। অন্যদিকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী চড়া সুরে বিজেপিকে আক্রমণ করেন। একের পর এক উদাহরণ এনে তিনি বলেন - সাধারণ মানুষের স্বার্থে নয় বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্র সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সবকিছু কর্পোরেট সেক্টরের হাতে তুলে দেওয়া এবং এরফলে ‘বণিকের মানদণ্ড দেখা দিচ্ছে রাজদণ্ড রূপে'। তখন দেশের মাটি আর সাধারণ মানুষের থাকবে না। দলীয় কর্মীদের তিনি জুতো, ঝাঁটা, লাঠি নিয়ে বিজেপিকে তাড়ানোর নিধান দেন। পরাধীন ভারতের বেশ কয়েকটি সংবাদ পত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বিজেপির বিরুদ্ধে কলম ধরার আহ্বান জানান।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *