চাকদোলা মোড় থেকে জামুড়িয়া যাওয়ার রাস্তায় যমরাজের বাসস্থান।। সামান্য অসাবধানতা কেড়ে নেবে আপনার প্রাণ

রাকেশ লাহা, জামুড়িয়া, পশ্চিম বর্ধমান :-

মেলায় কুড়ি টাকা টিকিট কেটে আপনি হয়তো মরণকুপ দেখেছেন, কিন্তু বাস্তবের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে সত্যিই মরণকুপ দেখতে হলে  আপনাকে স্বাগত জানাই শিল্পাঞ্চলে।

 হ্যাঁ, কোথাও উঠেছে পিচের প্রলেপ, কোথাও হয়েছে গভীর খাল। জরাজীর্ণ এই রাস্তার উপর দিয়েই নিত্যদিন পারাপার করতে হচ্ছে কয়েক হাজার পথচারীকে। যার মধ্যে রয়েছে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া, কারখানার শ্রমিক, অফিস যাত্রী এবং সাধারণ মানুষতো রয়েইছে।  এছাড়াও স্থানীয় বিধায়ক থেকে শুরু করে পুলিশ  প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, এমনকি ব্লক প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিজ নিজ অফিস যেতে হলে পার হতে হয় এই বেহাল রাস্তা। 

অন্যদিকে আবার এই রাস্তার উপরেই রয়েছে প্রাণী দপ্তর, কৃষি দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর, সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের অফিস এছাড়াও জামুড়িয়াবাসীর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বাহাদুরপুর গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিও রয়েছে চাকদোলা মোড় থেকে জামুড়িয়া যাওয়ার প্রধান রাস্তার  উপরেই।

 অপরদিকে আবার জামুড়িয়ার বুকে অবস্থিত ছোটো বড় মিলিয়ে প্রায় ৫০টি কলকারখানা রয়েছে যে কলকারখানা গুলিতে যেতে হলেও এই রাস্তাটিই প্রধান রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে শ্রমিকরা। 

বর্তমানে সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ এই রাস্তার আজ  রীতিমত মরণকুপে পরিণত হয়েছে। 

সামান্য অসাবধানতা হলেই এই রাস্তা কেড়ে নিতে পারে সুস্থ-সবল ব্যক্তির প্রাণ। 

তবুও কোনরকম কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , জামুরিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের চাকদোলা মোড় থেকে জামুরিয়া বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে পথচারীদের। এলাকার মানুষ থেকে শুরু করে বিরোধী দল সকলের অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসন, জননেতা এমনকি জনপ্রতিনিধি, সকলেই দৃষ্টি হারিয়েছে।

 কেননা তারা ২৪ ঘন্টা এই রাস্তার উপর পারাপার করছে তবুও রাস্তা সংস্কারের কোনো রকম কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। 

 এ বিষয়ে কারখানার শ্রমিকরা আমাদের জানাই, একদিকে রাস্তার মর্মান্তিক দশা অন্যদিকেএ রাস্তার উপর মুহূ মুহূ ছুটছে কারখানার  মালবাহীগাড়ি, দীর্ঘই ৭ কিলোমিটার রাস্তা পারাপারের সময় সামান্য অসাবধানতা হলে প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে আমাদের। তারা জানাই বহুবার ঘটেছে দুর্ঘটনা তবুও স্থানীয় প্রশাসন কোনো রকম কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। 

এদিকে আবার বিরোধী দলের নেতাদের দাবি, পশ্চিম বর্ধমান জেলার বুকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত জামুড়িয়া অথচ সেই শিল্পাঞ্চলের রাস্তারই আজ করুণ ছবি। এই রাস্তায় এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। নিত্যদিনই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা যার কারণ হিসেবে এই বেহাল রাস্তা কেই দায়ী করছেন বিরোধীরা। 

তাদের বক্তব্য রাজ্য সরকার এ রাস্তার মেরামতি বিষয়ে একেবারে উদাসীন।

আমরা দাবি রাখছি এই রাস্তা যেন দ্রুত মেরামত হয়। 

তবে এ বিষয়ে বিধায়ক  হরেরাম সিং  জানান চাকদোলা থেকে জামুরিয়া যাওয়ার প্রধান রাস্তার বেহাল ছবিটি আমরা লিখিত করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠিয়েছি। 

তবে শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়ীদের একটা দাবি যে এই রাস্তাটি চার লেন হলে খুবই ভালো হয়, সে ক্ষেত্রে যানজট সমস্যা যেমন কমবে তেমনি যাত্রাপথও সুগম হবে, এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবনা চিন্তা চলছে। বিধায়কের আশ্বাস যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই রাস্তাটি ঠিক হয়ে যাবে।।

এখন দেখার কত দিনে চাকদোলা মোড় থেকে জামুরিয়া যাওয়ার ৭ কিলোমিটার এই বেহাল রাস্তার হাল ফিরে আসবে ? কবেই বা নিত্য পথচারিতা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে ? সে দিকে তাকিয়ে শিল্পাঞ্চলবাসী।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *