চিত্তরঞ্জনে বাইক চোর চক্রের পতন, আরপিএফের জালে ধরা পড়ল আন্তঃরাজ্য গ্যাং

কৌশিক মুখার্জী: চিত্তরঞ্জন:-

চিত্তরঞ্জনের রেল কারখানা এলাকায় বারবার বাইক চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। এই চুরির পেছনে ছিল একটি সুসংগঠিত আন্তঃরাজ্য চক্র। অবশেষে, রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনীর (আরপিএফ) গোয়েন্দা শাখার তৎপরতায় ধরা পড়ল এই গ্যাংয়ের দুই সদস্য। ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলার কারমাটার এলাকার বিকাশ কুমার পন্ডিত (৩০) এবং নাসিরুদ্দিন আনসারী (২৮) নামে এই দুই অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে।
গত এপ্রিল, মে এবং জুন মাসে চিত্তরঞ্জনের রেল ইঞ্জিন কারখানার ট্রাকশন মোটর স্ট্যান্ড থেকে একের পর এক তিনটি মোটরবাইক চুরি হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। চোরদের ধরতে আরপিএফ একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে। দলটি স্থানীয় সূত্র এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৎপর হয়ে ওঠে। তদন্তে জানা যায়, ঝাড়খণ্ড থেকে পরিচালিত একটি চক্র এই চুরির সঙ্গে জড়িত।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরপিএফ জানতে পারে, ১১ জুন সকালে চোরেরা আবারও চিত্তরঞ্জনে হানা দেবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট স্থানে ফাঁদ পাতা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সকালে চুরির উদ্দেশ্যে আসা বিকাশ এবং নাসিরুদ্দিন আরপিএফের হাতে ধরা পড়ে। তাদের কাছ থেকে একটি বিশেষ “মাস্টার কি” উদ্ধার হয়, যা দিয়ে তারা হিরো কোম্পানির যেকোনো বাইক সহজেই খুলতে পারত।
জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা জানায়, কারমাটারের এক ব্যক্তি তাদের চুরি করা বাইক কিনত। এই তথ্যের ভিত্তিতে আরপিএফ কারমাটারে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করে। তার কাছ থেকে একটি চোরাই বাইক উদ্ধার হয়, যদিও এটি চিত্তরঞ্জনের চুরির ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে প্রাথমিক তথ্য।
চিত্তরঞ্জন থেকে চুরি হওয়া বাইকগুলি উদ্ধারে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় আরপিএফের তল্লাশি অভিযান চলছে। এই সাফল্যের ফলে এলাকার বাইক চুরির আতঙ্ক অনেকটাই কমবে বলে স্থানীয়রা আশাবাদী। ধৃতদের চিত্তরঞ্জন পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, এবং পুলিশও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনা আরপিএফের কার্যকুশলতা এবং অপরাধ দমনে তাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার প্রমাণ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *