জমির টাকা চাইতেই কানে বন্দুক ঠেকাল এক যুবক, আতঙ্ক সালানপুরে

কাজল মিত্র: সালানপুর:- ৩৩ শতক জমি ঘিরে 

উত্তেজনা কানে ঠেকানো হল বন্দুক ।রীতিমত চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে রূপনারায়নপুর  এলাকায়। ঘটনার সম্পর্কে জানা যায় যে সালানপুরের সামডি পঞ্চায়েতের পাহাড়গোড়ার এলাকার 33 শতক জায়গা নিয়ে  এক লক্ষ টাকার অগ্রিম ফেরত চাইতেই মাথায় ঠেকানো হল আগ্নেয়াস্ত্র! প্রশ্ন উঠছে, সালানপুরে কি তবে বন্দুকই শেষ কথা?

ঘটনার কেন্দ্রে আছেন আছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা, স্বর্গীয় তপন তেওয়ারির পুত্র পল্লব তেওয়ারি। অভিযোগ, পাহাড়গোড়ায় ৩৩ শতক জমি কেনার জন্য তিনি ফুলবেড়িয়া–বোলকুন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের বোলকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা জয় গরাইকে এক লক্ষ টাকা অগ্রিম দেন। পরে জানা যায়, যে জমির জন্য অগ্রিম দেওয়া হয়েছে, সেই জমি ইতিমধ্যেই মূল মালিক অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। অর্থাৎ অগ্রিম গেল, জমি গেল—ফেরত পাওয়াই ছিল একমাত্র দাবি।

কিন্তু টাকা ফেরত চাওয়া কি আজকাল অপরাধ? অভিযোগ বলছে, গত রবিবার দুপুরে জয় গরাই পল্লব তেওয়ারিকে কেন্দুয়াডি মোড়ে ডেকে নিজের বোলেরো গাড়িতে তোলেন। গাড়ির ভেতরে টাকা ফেরতের কথা উঠতেই মুহূর্তে রূপ বদলে যায় পরিস্থিতির। অভিযোগ অনুযায়ী, জয় গরাই আচমকাই আগ্নেয়াস্ত্র বের করে পল্লব তেওয়ারির মাথায় ঠেকিয়ে দেন। অর্থের দাবি মুহূর্তে বদলে যায় প্রাণ বাঁচানোর লড়াইয়ে।

প্রাণে বাঁচতে গাড়ির ভেতরেই দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা সাধারণ মানুষ পুরো দৃশ্যটি দেখে এগিয়ে না এলে কী পরিণতি হত, সে প্রশ্ন আজও কাঁপিয়ে দেয়। স্থানীয়দের তৎপরতায় কোনোমতে পল্লব তেওয়ারিকে উদ্ধার করা হয়। খবর যায় সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুর ফাঁড়িতে। পুলিশ এসে আগ্নেয়াস্ত্র সহ জয় গড়াইকে গ্রেফতার করে এবং বোলেরো গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করে। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পল্লব তেওয়ারি। অভিযুক্তকে সোমবার সকালে আদালতে পেশ করা হয়।তদন্ত সাপেক্ষে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে চাওয়া হয়।

এখানেই শেষ নয় প্রশ্নের তালিকা। জয় গরাই পল্লবকে মারতে চেয়েছিলেন নাকি শুধু ভয় দেখাতে—এই বিতর্ক চলতেই পারে। কিন্তু একটি বিষয় সন্দেহাতীতভাবে পরিষ্কার, তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং সেটি সে ব্যবহারও করেছে। তাহলে প্রশ্ন উঠছেই—একজন সাধারণ মানুষ বা কথিত জমি কেনাবেচার দালালের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের দরকার কী?

জয় গরাই আসলে কী করেন? তার আয়ের উৎস কী? এই অস্ত্র কি বৈধ, না কি বেআইনি পথে সংগৃহীত? এই আগ্নেয়াস্ত্র কি শুধু ‘ভয় দেখানোর’ জন্য, নাকি এর আগেও কারও দিকে তাক করা হয়েছে? এলাকায় কি আরও কেউ এমন অস্ত্র নিয়ে ঘুরছে?

সালানপুরের মতো এলাকায় প্রকাশ্যে বন্দুক বেরোনো শুধু একটি ব্যক্তিগত বিবাদ নয়, এটি প্রশাসনের জন্যও এক অস্বস্তিকর বার্তা। আজ জমির অগ্রিম নিয়ে বন্দুক বেরোল, কাল আর কী নিয়ে বেরোবে? টাকা, জমি, না কি রাজনৈতিক প্রভাব?

এক লক্ষ টাকার অগ্রিম ফেরত চাওয়া থেকে যে ঘটনা বন্দুকের মুখে গিয়ে দাঁড়ায়, তা সমাজকে স্পষ্ট করে একটি কথাই বলছে—আইনের ভয় যত কমছে, আগ্নেয়াস্ত্রের দাপট তত বাড়ছে। এখন দেখার, পুলিশের তদন্ত এই বন্দুকের উৎস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে কি না, নাকি প্রশ্নগুলো প্রশ্নই থেকে যাবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *