মায়া সাহা (কলকাতা)

সঞ্জয় ছেলেটা অভাবের তাড়নায় পড়াশোনার পাশাপাশি, ডেলিভারি বয়ের কাজ নিয়েছে। ওর কলেজটা বাড়ির কাছাকাছি। তাই কলেজ যাওয়ার আগে সকালে ঘুম থেকে উঠেই ও ফোনের অ্যাপে লগইন করে এবং কিছু অর্ডার পেলেই তড়িঘড়ি করে ক্লায়েন্টের বাড়িতে অর্ডারকৃত পণ্য পৌঁছে দিতে যায়।
কলেজে অফ পিরিয়েডে লাইব্রেরিতে বসে নিজের পড়া সেরে নেয়। এরপর বাড়ি ফিরেই হালকা কিছু খেয়ে সন্ধ্যার অর্ডারি পণ্য বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে যায়। ডেলিভারি বয়কে কেউ হাসিমুখে থ্যাংকস জানায়, আবার কেউ প্রয়োজন মিটে গেলে তড়িঘড়ি করে মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেয়। তখন ওর খুব খারাপ লাগে। যদিও ঘরে অসুস্থ বাবা মায়ের ঔষধ কেনা, দুই ভাইবোনের পড়াশোনার দায়িত্বটা ওর মাথায়। তবুও কেউ খুশি হয়ে কিছু বকশিস দিতে চাইলে তা নিতে ওর সম্মানে বাধে।
জীবনে অনেক কষ্টের গল্প থাকলেও সঞ্জয় কাউকে বুঝতে দেয়না। মুখে একগাল হাসি নিয়ে সারাদিনের কাজ সম্পন্ন করে এবং অনেক রাত পযর্ন্ত নিজের পড়াশোনায় করে। সঞ্জয় স্বপ্ন দেখে ও একসময় ডেলিভারি বয় থেকে রেস্টুরেন্টের মালিক হবে।
সময় একদিন ও’কে সেই সুযোগ এনে দিয়েছে।