তৃতীয় লিঙ্গ : এক পৃথিবীর অধিকার

তোমাদেরই ইন্দু (কলকাতা)

তাঁদের জন্ম যে তৃতীয় লিঙ্গে,
তা কোনো অভিশাপ নয়—
মানুষের চোখের দেয়ালে
শুধু অদৃশ্য ক্যানভাস রয়ে যায়।

তাঁদের হাসিতে রঙ আছে,
তাঁদের কণ্ঠে জীবন বাজে,
তবু সমাজ দরজা ভেজায়
অকারণ লজ্জার হাওয়ায়।

কেউ বলে ভিন্ন,
কেউ বলে অর্ধেক—
এই অর্ধেকের ভেতরেই
কত শত পূর্ণতার রোদ ঝলমল করে।

তারা নাচে রাস্তাঘাটে,
তবু বাঁচে আঘাতে আঘাতে—
যেন রোদ পায়নি তাই
তাদের ছায়ারও মানে নেই কারো কাছে।

কিন্তু সত্যি বলি—
এই পৃথিবীর আকাশে
তাদেরই রংধনু সবচেয়ে পুরোনো,
সবচেয়ে সত্য, সবচেয়ে নির্ভীক।

তিন রঙ নয়, সাত রঙ নয়,
মানুষের হৃদয় যত রঙ ধরে—
সবটুকুই তাদেরও অধিকার।

যে দিন আমরা বুঝব,
মানুষ মানেই মানুষ—
সেদিনই পৃথিবী সত্যি মুক্ত হবে
তৃতীয় লিঙ্গের অশ্রুহীন ভোরে।
ওদের নাচানো মানে বিনোদন নয়—সমাজের নিজের ব্যর্থতার তামাশা..

আজ আমার সূর্য্যকে নাচালো হিজড়ে দিদিরা।
হাসিমুখে, আর্শীবাদের তালে,
তবু কোথাও একটা প্রশ্ন
আমার বুকের ভেতর আগুনের মতো জ্বলে উঠল,
ওদের দিয়েই নাচানো হয় কেন?
কেন জন্মের পর থেকেই ওদের জীবনের গানটা
শুধুই ‘তালি–তাল’–এর বাঁধাধরা ছক?

কারণ এই সমাজটা
হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানায় খুব কম মানুষকে—
আর ঠেলে দূরে সরিয়ে দেয় অনেককে।

হিজড়ে শিশুরা জন্মের পর
মায়ের কোল থেকে যতটা দূরে যায়,
সমাজের হৃদয়ের কাছে
তার চেয়েও বেশি দূরে ঠেলে দেওয়া হয়।

স্কুলে ভর্তি দাঁড় করিয়ে রাখে,
চাকরির লাইনে চোখ ফিরিয়ে নেয়,
রাস্তার ধারে তাকিয়ে ফিসফাস করে—
এ সমাজই শেষে বলে—

“নাচো।
এটাই তোমাদের কাজ।
এটাই তোমাদের পরিচয়।”

কিন্তু সত্যিটা অনেক বড়—
ওরা নাচে না আনন্দে,
নাচে বাধ্যতায়,
নাচে বাঁচতে,
নাচে সম্মানবঞ্চিত জীবনের ক্ষুধা মেটাতে।

যে সমাজ ওদের সব দরজা বন্ধ করেছে,
সেই সমাজই আবার হাততালি দেয়—
এটাই সবচেয়ে তীক্ষ্ণ বিদ্রুপ।

আজ আমার সূর্য্যকে নাচানো হলো—
আমি রাগ করিনি, কারণ অপরাধীর মুখ
ওদের নয়।

অপরাধী তো সেই সমাজ
যা মানুষকে মানুষ হতে দেয় না,
পরিচয়কে ছুরি করে কেটে ফেলে
একটা মাত্র রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করে।

সেদিন আসবে—
যেদিন কোনো হিজড়ে দিদি বলবে—
“আজ আমি নাচবো না,
আজ আমি ডাক্তার দেখবো,
শিক্ষক হয়ে ক্লাস নেব,
অফিসে মিটিং করবো,
বা নিজের ব্যবসায় ব্যস্ত থাকবো।”

সেদিন সমাজ বদলাবে।
সেদিন সূর্য্য, চাঁদ, রোদ—
সবাই সমান আলো দেবে।
সেদিন শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে
আমি বলবো—

এটাই সত্যিকারের স্বাধীনতা—
যেখানে নাচ বাধ্যতামূলক নয়,
পেশা স্বাধীন।
মানুষের পরিচয় একটাই—
মানুষ।..

আমার সূর্য্য যেনো জগৎ সংসারে সূর্য্য হয়ে উঠতে পারে এই আশীর্বাদ চাই সকলের কাছে।আমাদের বাবার বংশের ওই আলো করে এসেছে রিয়া আর বিট্টুর কোলে …এই আলো যেনো সবার জীবনে ওম হয়ে ছড়িয়ে পড়ে এই টুকু আশীর্বাদ রইলো সূর্যের জন্য।ভালো থাকিস সূর্য,ভালো মানুষ হয়ে বড়ো হয়ে সকলের মুখ উজ্জ্বল করবি এটাই আমার প্রথম ও শেষ চাওয়া…

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *