দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ভিন্ন আঙ্গিকে গুসকরা পুলিশ ফাঁড়ির উদ্যোগ

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী, গুসকরা, পূর্ব বর্ধমান-: লোকসংখ্যা এবং চারচাকা ও দু'চাকা গাড়ি, টোটো, মোটর ভ্যান, সাইকেল সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও প্রাকৃতিক নিয়মেই বাড়ছেনা রাস্তার পরিমাণ। ফলে রাস্তার উপর ট্রাফিক চলাচলের চাপ বাড়ছে। এরসঙ্গে আছে মাথায় হেলমেট বিহীন নতুন প্রজন্মের একদল যুবকের বিপজ্জনক গতিতে মোটরবাইক চালানো। সবমিলিয়ে দুর্ঘটনা জনিত কারণে দিনের পর দিন মৃত্যু সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পথ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ৮ জুলাই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জ্জীর উদ্যোগে চালু হয় 'সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ' প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্পকে সার্থক রূপ দেওয়ার জন্য সক্রিয় হয়ে ওঠে রাজ্যের পুলিশ ও ট্রাফিক গার্ডের আধিকারিকরা। দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও সেটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তাই এবার ভিন্ন আঙ্গিক নিতে দ্যাখা গ্যালো গুসকরা পুলিশ ফাঁড়ির আধিকারিকদের। গত ৪ ঠা ডিসেম্বর গুসকরা পুলিশ ফাঁড়ির উদ্যোগে গুসকরা বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত ট্রাফিক সচেতনতা মঞ্চে সরাসরি পথ দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারের সদস্যদের হাজির করানো হয়।

দুর্ঘটনায় কেউ হারিয়েছেন সন্তানকে, কেউবা স্বামীকে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে অনেকেই আজ দিশাহারা। পরিবারের সদস্যদের মুখে দু'বেলা দু'মুঠো অন্ন তুলে দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। মঞ্চে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তাদের এই দুর্দশার কাহিনী তুলে ধরেন উপস্থিত স্বজন হারানো পরিবারের সদস্যরা। মোটরবাইক চালকদের হেলমেট ব্যবহার করার পাশাপাশি সমস্ত ধরনের গাড়ির চালকদের সাবধানতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর জন্য তারা হাত জোর করে অনুরোধ করেন। দুর্ঘটনা জনিত কারণে কোনো সংসার যাতে পথে বসে না যায় তারজন্য প্রত্যেককে সচেতন থাকার জন্য তারা অনুরোধ করেন। এরআগে গুসকরা বাসস্ট্যান্ড থেকে বিদ্যাসাগর হল পর্যন্ত একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের হয়। পুলিশ আধিকারিক, গুসকরা ট্রাফিক গার্ডের ভারপ্রাপ্ত ওসি ও সিভিক ভলাণ্টিয়াররা এই র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।

মোটরবাইক চালকদের হেলমেট ব্যবহার করার জন্য তারা পরামর্শ দেয়। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আউসগ্রাম থানার আইসি আব্দুর ওয়াহব রব, গুসকরা পুলিশ ফাঁড়ির ওসি সৌরভ দত্ত, গুসকরা ট্রাফিক গার্ডের ওসি বিশ্বনাথ পাইন সহ অন্যান্যরা। আইসি বলেন, দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমরা সতর্ক আছি। তার মাঝেই কয়েকজনের হঠকারিতা বিপদ ডেকে আনছে। দুর্ঘটনা জনিত হঠাৎ মৃত্যু একটা পরিবারের কী ধরনের সর্বনাশ ডেকে আনে সেটা সাধারণ মানুষকে বোঝানোর জন্য আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। গুসকরা পুলিশ ফাঁড়ির উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে আসানসোলের বিশিষ্ট মনোবিদ তানেয়া মুখার্জ্জী বললেন, হাজার বোঝানোর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের করুণ অভিজ্ঞতা অনেক সময় মানুষের মনে বেশি প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে হয়তো ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে। তবে সমস্ত সাফল্য নির্ভর করবে মানুষের বোধবুদ্ধির উপর।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *