দ্বিতীয়বার দুর্গাপূজার কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হল আসানসোলে

নিজস্ব সংবাদদাতা: আসানসোল:-

বাঙালির প্রাণের উৎসব, শ্রেষ্ঠ উৎসব হলো দুর্গোৎসব। আর বাংলার দুর্গোৎসব ইউনেস্কো-র বিচারে বিশ্বের “কালচারাল হেরিটেজ” এর তকমা পাওয়ায় পুজোর আনন্দ বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আর প্রতি বছর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর নেতৃত্বে কলকাতার রেড রোডে দুর্গাপুজোর কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু গত তিনবছর ধরে বাংলার দুর্গোৎসব ইউনেস্কোর কালচারাল হেরিটেজ এর স্বীকৃতি পাওয়ায় কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের সমস্ত জেলাতেও দুর্গাপুজোর কার্নিভাল করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। আর প্রত্যেক জেলার সাথে তাল মিলিয়ে গত বছর থেকে আসানসোলেও শুরু হয়েছে কার্নিভাল। জেলাগুলিতে ১৪ ই অক্টোবর সোমবার দুর্গাপুজোর কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হলো।

আর তারই অঙ্গ হিসাবে সোমবার পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল শিল্পাঞ্চলের আসানসোল পৌর নিগম এবং আসানসোল প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্বিতীয়বার দুর্গাপূজার কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হল।

এই দুর্গাপূজার কার্নিভালে অংশগ্রহণ করে মোট ১৫ টি দূর্গা পূজা কমিটি। এই দুর্গাপূজার কার্নিভাল বার্নপুর রোডে এই বছরের পুজোর কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছিলো। সূচনায় যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় তার মধ্যে ছিলো শঙ্খ বাজানো, , ঢাক, আদিবাসী নৃত্য, ছৌ নৃত্য আরও অনেক অনুষ্ঠান ছিলো।

এই বছর কার্নিভাল বার্নপুর রোড পুলিশ লাইন থেকে শুরু হয়ে ভগৎ সিং মোড় পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
এই দুর্গাপূজার কার্নিভালের শুভ উদ্বোধন করেন রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী মলয় ঘটক।
পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন আসানসোলের মেয়র তথা বারাবনি বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়, পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পোন্নমবলম এস, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী,আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা,
জামুড়িয়া বিধায়ক হরেরাম সিং, দুই ডেপুটি মেয়র অভিজিৎ ঘটক ও ওয়াসিমল হক, এমআইএমসি গুরুদাস চ্যাটার্জী, পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি,জেলা পরিষদের পরামর্শ দাতা শিবদাশন দাশু,পৌর নিগমের চেয়ারম্যান অমরনাথ চ্যাটার্জী। এছাড়াও ছিলেন আসানসোলের মহকুমাশাসক অভিজ্ঞান পাঁজা, আসানসোলের মহকুমাশাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক সহ পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা।
এবং অন্যান্য সমস্ত ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মুল আকর্ষণ ছিলো অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও তার ট্রুপের নৃত্যানুষ্ঠান।
এই দুর্গাপূজার কার্নিভালে অংশগ্রহণকারী পূজা কমিটি গুলি বিভিন্ন প্রকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেন।
বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী সৌমাত্বানন্দজী মহারাজ, শিল্পী সুশান্ত রায় ও আসানসোল গার্লস কলেজের প্রিন্সিপাল।
এদিন কার্নিভাল অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক, সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা, পশ্চিম বর্ধমানের জেলা শাসক ও পুলিশ কমিশনার তাদের মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।

এই দুর্গাপূজার কার্নিভাল দেখার জন্য আসানসোলের পথে মানুষের জন জোয়ার ছিল চোখে পড়ার মতো। দর্শকদের বসার জন্য জেলা প্রশাসনের তরফে বার্ণপুর রোডের একধারে চেয়ার পাতা হয়েছিলো।

সোমবার এই কার্নিভালের জন্য বার্নপুর রোডের কোর্ট মোড় পুলিশ লাইন থেকে ভগৎ সিং মোড় পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছিলো। অন্য সব রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিলো। গাড়ি চলাচল অন্য রাস্তায় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ট্রাফিক ব্যবস্থা ও কার্নিভ্যালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মোতায়েন করা হয়েছিলো বিশাল পুলিশ বাহিনী, রেফ, কমব্যাট ফোর্স ও বিশেষ বাহিনী।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *