রাকা ভট্টাচার্য্য (কলকাতা)

আগমনী বসন্ত হরিদ্রাভ সরিষা প্রান্তর জুড়ে
জুড়িয়ে যাওয়া নয়নাভিরামে জড়িয়ে ধরেছি
আশৈশবী এ উদাসী হলুদ আঁচল, হাত বুলিয়ে
বুলিয়ে ছুঁয়ে দেখেছি মা কে, আমার পৃথিবীকে…
আমার আকাশ, আমাদের উন্মুক্ত স্বাধীন নীলাচল,
হারিয়ে যেতে যেতে এ দেশ ও দেশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে
মাতৃত্বের কোল ঘেঁষে আমাদের ই ভাই বোন….
উত্তাল বাতাসে বিদেশী প্রেমিকের মর্মর স্মৃতি ..
গঙ্গা পদ্মা যমুনা নর্মদা ত্রিবেণী সঙ্গমে আমাদের ঐতিহ্যময়
ভালোবাসাবাসির সরল কথ্য ইতিহাসে চুম্বন রাখি….
তবু বরাভয়ে ধূমায়িত গগন , বাতাসে বারুদের ইন্দ্রজাল,
তরঙ্গে তরঙ্গে ভেসে যায় লাশ, হলুদে সবুজে
লেগেছে নরকের লেলিহান অঙ্গার,
শিশুদের মৃত্যু সফরে কেন আজ আসেনা কোল পেতে
যীশু ? বীর সৈনিকের রোদ মাখা ভাঙা বুকে শেষ কবে চুমু
এঁকে ঘুমিয়ে পড়েছে তার প্রেমিকা জানো কি?
মানুষে মানুষে কেড়ে নেয় প্রাণ, ভগবান কে?
আমি কি তছনছ করে দেব এই সরিষার ক্ষেত
একটি যুদ্ধ বোমা হামলার আগেই? নিশ্চিন্ত ঘুম
যাওয়া কোলশিশুটিকে নিশ্চিত ঘুমে ঢলে যেতে
দেখার আগে কোথায় লুকাবো তাকে?
এমন দ্রিমি দ্রিমি ধীর লয়ে অধীর মৃত্যুর নির্দয়
নাচ মানুষ ছাড়া আর কে নাচায় বলো?
আলেকজান্ডার তুমি ক্লান্ত হবে কবে?
চেঙ্গিস খাঁ, নেপোলিয়ান বোনাপার্ট তোমাদের
স্যালুট ছুঁড়েছে কবে কারা?
সম্রাট অশোকের কন্ঠে কবে শুনব সে
শান্তি সৌম্য বাণী…
“বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি
ধম্মং শরণং গচ্ছামি
সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি”…
