পাকিস্তান নাগরিকদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর দাবি তুলল জেলা বিজেপি

রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার -:

       পহেলগাঁওয়ের নৃশংস ঘটনার পর ভিসা নিয়ে এদেশে বসবাসকারী পাকিস্তানের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নির্দেশ মেনে অনেকেই পাকিস্তানে ফিরে যায়। পশ্চিম বর্ধমান জেলা বিজেপি নেতৃত্বের দাবি এরপরও অনেক পাকিস্তানি নাগরিক ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরও অবৈধভাবে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করছে। 

এটি দেশের নিরাপত্তার পক্ষে যথেষ্ট বিপজ্জনক।  এদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে এদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠাতে হবে।

         এই দাবি তুলে পশ্চিম বর্ধমান জেলা  বিজেপির পক্ষ থেকে আসানসোলের ভগৎ সিং মোড় থেকে ঘড়ি মোড় পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। অসংখ্য বিজেপি কর্মী এই মিছিলে অংশগ্রহণ করে। ‘দেশদ্রোহী ভারত ছাড়ো’, ‘ভারত মাতা কি জয়’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত হয়ে সমগ্র এলাকা। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

         সকল পাকিস্তানি নাগরিককে চিহ্নিত করে তাদের ভিসা বাতিল করে অবিলম্বে পাকিস্তানে ফেরত পাঠাতে হবে – এই দাবি তুলে বিজেপির পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দলের পক্ষ থেকে  বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। 

       মিছিলে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পাল, কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী, জেলা বিজেপি সভাপতি  দেবতনু ভট্টাচার্য, বাপ্পা চ্যাটার্জি সহ আরও অনেকে।

         পরে সাংবাদিকদের অগ্নিমিত্রা পাল বলেন- 

দেশের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কোনো আপোষ করবনা। যেসব পাকিস্তান নাগরিক এইরাজ্যে বসবাস করছে তাদের অবিলম্বে ভারত ছাড়তেই হবে। অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে এই  প্রক্রিয়া শুরু হলেও পশ্চিমবঙ্গে এখনও এই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। তার অভিযোগ, এখানে বসবাসকারী পাকিস্তানিরা তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেয় বলেই এই গড়িমসি। কিন্তু বিজেপি এটা  হতে দেবে না। 

      এইরাজ্যে বসবাসকারী পাকিস্তানিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বিজেপির দাবির প্রতি সহমত প্রকাশ করলেও এলাকাবাসীর প্রশ্ন, পাকিস্তানিদের ভিসা দিয়েছে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং সেই তালিকা তাদের কাছে আছে। সেক্ষেত্রে এইসব পাকিস্তানিদের চিহ্নিত করণের কাজটা সহজেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক করতে পারত। যারা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এইদেশে এসেছে তাদের আটকানোর দায়িত্ব বিএসএফের। তাছাড়া এই দেশের নাগরিক নাহলে তাদের ভোট দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে কী করে। সুতরাং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে দাবিটা তুললে সেটা যথার্থ হতো। তাদের বক্তব্য –  দাবি যার কাছেই তোলা হোক দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনোরকম আপোষ করা চলবেনা। এক্ষেত্রে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলিকে কঠোর পদক্ষেপ করতেই হবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *