তিতলী রায় (কলকাতা)

নীল সাদা কাপড় পড়ে খুব ধীর গতিতে মেয়েটি সামনে এগিয়ে এলো,
হাতজোর করে সবাইকে প্রণাম জানিয়ে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে রইলো
পাত্র পক্ষের সবাই নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বড্ড বেশিই ব্যস্ত
প্রায় মিনিট পাঁচেক পর কেউ একজন বলে উঠলো আরে তুমি বোসো বোসো,
মেয়েটি আড়চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে সামনের চেয়ারে বসে পড়লো;
শাড়ির আঁচলে আঙুল দিয়ে পাকাতে পাকাতে দু’টি পা মেঝেতে ঘষতে লাগলো।
সুনয়না মনে মনে নিজেকেই বললো এরা কী সবাই মিলে পাত্রীর দর-কষাকষি করছে
বুকের ভিতর এক তীব্র যন্ত্রণা বারবার বলে উঠছে সত্যি মেয়েরা আজও কতো নগন্য।
বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেল এইভাবেই, একটি পুতুলের মতোই বসে মেয়েটি,
হঠাৎই কেউ একজন বলে উঠলো রান্না করতে পারতো সবকিছু,
মেয়েটি খুব মৃদুস্বরে বললো মোটামুটি পারি, তবে বলেই চুপ হয়ে গেল
পাত্র পক্ষের মধ্যে একজন বলে উঠলো তবে কী সেটা একটু শুনি
মেয়েটি বললো ঐ ভাত, ডাল, মাঝের ঝোল এসব মোটামুটি রান্না পারি,
সে কী বিরিয়ানি, ফ্রাইরাইস, চিলিচিকেন,কাশ্মীরি আলুর দম এসব…..
মেয়েটি বললো ওগুলো রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায়, বাড়িতে হয় না আমাদের,
কিন্তু আমরা তো আবার ছুটির দিনে বাড়িতেই ওসব খাই,রাধুনি রান্না করে দেয়।
কেউ একজন বলে উঠলো তোমার নাম কী সেটা তো জানাই হলো না?
সুনয়না ; শুনেই একজন বলে উঠলো এসব নাম এখন আর কেউ রাখে না,
আচ্ছা তোমার লেখাপড়া কতদূর খুব তাচ্ছিল্যের সুরে কেউ একজন বলে উঠলো
ইংরেজি বোঝো,নাকি শুধু বাংলা নিয়েই, ছেলে আমাদের বিদেশে কাজ করে
আর চুপ থাকতে পারেনি সুনয়না, সে বলে উঠলো ছেলে কী পাশ করেছে
সুনয়নার কথা শুনে একজন বলে উঠলো ঐ বারো ক্লাসে পড়ার পর বিদেশে কাজ করে
সুনয়না বললো আমি ইংলিশে এমএ বিএড,খুব তাড়াতাড়ি কলেজে পড়াবো,
সবাই চমকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো কাচুমাচু মুখে একজন বললো আমরা আসছি সবাই।
