পাথরের ফুল হবার অপেক্ষা…..

মৌমিতা মৌ (কলকাতা)

আমি দাঁড়িয়ে আছি এক অদৃশ্য চত্বরে, যেখানে দিক-দিগন্তের সব রাস্তা এসে মিশে গেছে এক নীরব আলোকবিন্দুতে। যারা এসেছিল, তারা এখন ধুলোর পাখায় উড়ে দূর কোনো অজানা নক্ষত্রে গিয়ে নেমেছে।

আমার যাত্রা কখনো শুরুই হয়নি— কারণ গন্তব্যের ঘড়ি
আমার জন্য বাজেনি কোনোদিন। আমি শুধু পথের শিকড়ে বসে আছি, যেন নদীর তলদেশে আটকে থাকা নুড়ি, যার উপরে জল বয়ে যায়,কিন্তু নুড়ির নাম কেউ জানে না।

মানুষ যখন আসে, আমি ভাবি— হয়তো সে জানে সেই দরজার কথা, যেখান দিয়ে বেরিয়ে যাবে আমার অপেক্ষার কালো প্রাসাদ। কিন্তু এখানে হাত মানেই সিঁড়ি, আর সিঁড়ি মানেই অন্যের কাঁধের হাড়।

আমি তাই বসে আছি এই অচল সময়ের সিঁড়িতে,
যতদিন না বাতাস আমার চুলে মস জন্মায়,
আর আমার হাড়ের ভেতর দিয়ে শিকড় গেঁথে যায়।
একদিন আমি হয়ে যাবো পাথরের গন্তব্য—
যেখানে কেউ এসে থামবে, কিন্তু আর কেউ ফিরবে না।

আমি থাকব এখানেই, যতদিন না আমার ত্বকে সময়ের শ্যাওলা ফুটে ওঠে, আমার রক্তে জমে যায় পাথরের দানা, আর আমি হয়ে যাই ‘পাথরের ফুল’— যার পাপড়িতে কেউ হাত রাখবে, কিন্তু তার গন্ধ কেউ নিয়ে যাবে না।

আসলে:-
কিছু যাত্রা গন্তব্যে পৌঁছায় না, বরং পাথরে পরিণত হয়— সময়ের নিজস্ব শিল্পকর্ম হয়ে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *