শুদ্ধিকরণ প্রতিবার, গঙ্গাসাগরের অঙ্গীকার
রমেশ রায়, গঙ্গাসাগর:- পুন্যার্থী আগমনে রেকর্ড তৈরি হলে এবারের গঙ্গাসাগর মেলায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী, অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন এবারের গঙ্গাসাগর মেলা ১ কোটি ৩০ লক্ষ্ তীর্থযাত্রী এসেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং রাজ্যের বেশ কিছু দপ্তরের কাজ এই মেলাকে সর্বাঙ্গিকভাবে দুর্ঘটনা মুক্ত এবং সুন্দর একটা মেলা করতে সফল হয়েছে । এই দিনের মেলা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী , স্থানীয় বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা এবং কয়েকটি দফতরের সচিবরা। প্রত্যেকেই গঙ্গাসাগর মেলা কে দুর্ঘটনা মুক্তমেলা করতে যে প্রচেষ্টা তৈরি করেছিলেন তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। আগামী দিনে এই মেলা আরো সফল হবে বলে জানানো হয়েছে মেলা কমিটির চেয়ারম্যান সুরিন্দর গুপ্তা। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর এবং রাজ্যের সেচ ও উন্নয়ন দপ্তর ও পঞ্চায়েত দপ্তরের সহযোগিতায় এই মেলাকে সব দিক দিয়ে সবুজ ও প্লাস্টিক ফ্রি মেলা করতে সক্ষম হয়েছে । মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন এই মেলা গোটা বিশ্বের দরবারে জায়গা করে নিয়েছে, তার পরেও কেন্দ্রীয় সরকার অবহেলা করছেন। জাতীয় মেলা ঘোষণা করছেন না । মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলা ঘোষণার আবেদন জানিয়েছে কিন্তু তারপরেও এই মেলাতে জাতীয় মেলা ঘোষনা করা হয়নি । সাগর মেলার জন্য কোন অর্থ সাহায্য করা হয় না কেন্দ্রের পক্ষ থেকে । মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস আরও জানান মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি মুহূর্তে নজরদারী এবং তাঁর নির্দেশ অনুসারে মন্ত্রীগন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি সক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্যই এখন পর্যন্ত গঙ্গাসাগর মেলাকে অতি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করা সম্ভব হয়েছে।বন্ধন-গরসঙ্গমে পুণ্যস্নানে স্মৃতি অক্ষয় করে রাখতে প্রশাসনের এক অনন্য প্রয়াস ছিল বন্ধন ফটো বুথ, যার মাধ্যমে প্রায় ১১ লক্ষ তীর্থযাত্রী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রশাসনের শুভেচ্ছাবার্তা ও নিজের ছবি সম্বলিত শংসাপত্র পেয়েছেন। এখনো পর্যন্ত ৪৫৬ টি পকেটমারীর ঘটনা ঘটেছে যার ৪৩৮ টি ক্ষেত্রে খোয়া যাওয়া বস্তু উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরৎ দেওয়া হয়েছে ও ৮৯৫ জনকে বিভিন্ন অপরাধমূলক জনিত কারনে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত ৬৬৩২ জন তীর্থযাত্রী তাদের আত্মীয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, পুলিশ প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তৎপরতায় ৬৬২৭ জনকে তাদের পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।৪) ১৪/০১/২০২৬নাম আশাদেবী, বয়স ৫০, রাজ্য বিহার, গোড়ালিতে ফ্র্যাকচার জনিত কারনে। ১৪/০১/২০২৬ নাম প্রেমাকান্তি দেবী, বয়স ৭২, রাজ্য বিহার, ফ্র্যাকচার জনিত কারনে। শুদ্ধিকরণ প্রতিবার, গঙ্গাসাগরের অঙ্গীকার”- এই স্লোগানকে সামনে রেখে যে গঙ্গাসাগর মেলা সূচনা করা হয়েছিল তা সঠিকভাবে পালন করা হয়েছে। কাল ১৬/০১/২০২৬ তারিখে ১ থেকে ১এ সমুদ্রতটে সকাল ১১ টায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঙ্গাসাগর সাফাই অভিযানের মধ্য দিয়ে সমুদ্রতটকে পরিষ্কার করা হবে। সবার কাছে আবেদন সমুদ্রতট পরিষ্কার রাখুন। আসুন পরিবেশ বান্ধব সমুদ্রতট গড়ে তুলি। প্রসঙ্গত: ৩০০০ সৈকত প্রহরী যাঁরা দিবারাত্রি কাজ করেছেন তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। এখনো পর্যন্ত আগত তীর্থযাত্রীদের মধ্যে সাগরে ২ জনের হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে।১) ১৪/০১/২০২৬ নাম মিঠু মন্ডল, বয়স-৫১, রাজ্য আসাম ২) ১৫/০১/২০২৬ নাম মৃত্যুঞ্জয় কুমার সিং, বয়স-৬১, রাজ্য বিহার। এখনো পর্যন্ত নিম্নলিখিত ৫ জন অসুস্থ তীর্থযাত্রীকে এয়ার লিফটের মাধ্যমে জরুরী ভিত্তিতে কলকাতার এম. আর বাঙ্গুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।১) ১২/০১/২০২৬ নাম সন্তলাল, বয়স ৬৪, রাজ্য উত্তর প্রদেশ, উচ্চচাপজনিত নাকের রক্তক্ষরণের কারনে।২) ১২/০১/২০২৬ নাম বিমলাদেবী, বয়স ৭৭, রাজ্য হরিয়ানা, মেটাটারসাল ফ্র্যাকচার জনিত কারনে। ৩) ১৩/০১/২০২৬ নাম রমেশচন্দ্র, বয়স ৫২, রাজ্য উত্তরপ্রদেশ, শ্বাসকষ্ট জনিত কারনে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা, সুন্দরবন বিষয়ক বিভাগ, মন্ত্রী পুলক রায়, জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগ মন্ত্রী, সুজিত বোস, অগ্নিনির্বাপণ ও রুরী পরিষেবা বিষয়ক বিভাগ মন্ত্রী, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, পরিবহণ বিভাগ মন্ত্রী, বেচারাম মান্না, কৃষি বিপণন বিভাগ বাপি হালদার, সাংসদ, মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্র মন্ত মালি, সহসভাধিপতি, চেয়ারম্যান গঙ্গাসাগর বকখালি উন্নয়ন পরিষদ অত্রি ভট্টাচার্য্য, অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, সুন্দরবন বিষয়ক বিভাগ সুরেন্দ্র গুপ্তা, প্রধান সচিব, জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগ ও ডিভিশনাল কমিশনার, প্রেসিডেন্সি বিভাগ ডঃ সৌমিত্র মোহন, সচিব, পরিবহণ বিভাগ সুমিত গুপ্তা, কমিশনার, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অরবিন্দ কুমার মিনা, জেলাশাসক, দক্ষিণ ২৪ পরগনা কোটেশ্বর রাও, আরক্ষাধ্যক্ষ, সুন্দরবন পুলিশ জেলা বৃহস্পতিবার, দুপুর ১ টা ১৯ মিনিটে পুণ্যকালের পরিসমাপ্তি হয়েছে। সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় তীর্থযাত্রীরা স্নান ও কপিল মুনির আশ্রমে পূজা অর্পণ করে নিরাপদে ফিরে যাচ্ছেন। এখনো তীর্থযাত্রীরা আসছেন।