প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে নেতাজীকে অপমান করার জন্য রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে F.I.R. হিন্দু মহাসভার

সংবাদদাতা: কলকাতা:-  প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে 26 সে জানুয়ারী সারা দেশ যখন উৎসাহের সাথে প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করছে ঠিক তখনই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ভারতের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল অখিলভারত হিন্দুমহাসভা রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে ভবানীপুর থানায় নেতাজীকে অপমান করার জন্য রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে F.I.R. করে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলো । সম্প্রতি 23 সে জানুয়ারী তারিখে ভারতের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তাইহোকু বিমান বন্দরের সাজানো বিমান দুর্ঘটনার দিনটিকে নেতাজীর মৃত্যু দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন । যদিও আজ সবাই জানে ওইদিন ওই স্থানে এই রকম কোন বিমান দুর্ঘটনা ঘটেনি । শুধু তাই নয় নেতাজী যে দুইবার নির্বাচিত হয়ে কংগ্রেস দলের সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন সেটা পর্যন্ত উল্লেখ করেননি রাহুল । নেতাজীকে এই ভাবে অপমান করার জন্যই ভবানীপুর থানায় অখিলভারত হিন্দুমহাসভার প্রতিনিধি মন্ডল ভারতের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে F.I.R. করেন এবং তারপর নেতাজীর বাড়ির সামনে গিয়ে ওনারা রাহুলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন । হিন্দুমহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর বক্তব্য রাহুল গান্ধীর নেতাজীকে অপমান করার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে । রাহুলের শরীরে সেই ডি.এন.এ. রয়েছে এবং ধমনীতে সেই রক্তই বইছে যে নরপিশাচদের চক্রান্তে নেতাজীকে প্রথমে কংগ্রেস ছাড়া এবং তারপর দেশ ছাড়া হতে হয়েছে । তাই রাহুল এবং তার পূর্বপুরুষেরা চিরকাল নেতাজী এবং নেতাজীর আদর্শকে ভারত থেকে মুছেদিতে চেয়েছে । কিন্তু নেতাজীর অবস্থান সমস্ত ভারতবাসীর হৃদয়ের সিংহাসনে আর তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা ঘৃণার আস্তাকুঁড়েতে স্থান পেয়েছে । তিনি আরও বলেন নেতাজীর দেখানো পথেই ভারত জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করবে । এখানে জাতির জনক হিসেবে অন্য কাউকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে কিন্তু সত্যি বলতে যে মহাপুরুষ ভারতের আত্মাকে প্রতিনিধিত্ব করে ভারত মায়ের সেই বীর সন্তানের নাম নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু । তাই আমরা হিন্দুমহাসভার সৈনিকেরা বরাবর টাকা থেকে গান্ধীর মুখ সরিয়ে নেতাজীর মুখ আনার পক্ষে সওয়াল করেছি । শুধু তাই নয় পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর সংলগ্ন নীলগঞ্জ অঞ্চলে নেতাজীর অজাদহিন্দ বাহিনীর কয়েক হাজার সৈনিককে গুলি করে হত্যা করেছে ইংরেজরা । অথচ নীলগঞ্জের নাম না জানা হারিয়ে যাওয়া পাখীদের ইতিহাসকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই গোপন করা হয়েছে । আমরাই প্রথম দাবী করেছি নীলগঞ্জকে হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করে নীলগঞ্জের আজাদহিন্দ বাহিনীর উপর এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ইতিহাসকে পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতের পাঠ্যপুস্তকে স্থান দিতে হবে । আগামী দিনে শুধু রাহুল কেন যে কোন মানুষ নেতাজীকে অপমান করলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে হিন্দুমহাসভা । রাহুলের কৃতকর্মের জন্য ভারতবাসী রাহুলকে এবং রাহুলের নিম্নরুচির রাজনৈতিক চক্রান্তকে উপযুক্ত শিক্ষা দেবে । আজ হিন্দু মহাসভার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী ছাড়াও, অফিস সেক্রেটারি অনামিকা মন্ডল, মনিমালা রায় , মঞ্জু সিং সহ আরও অনেক বিশিষ্ট নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *