প্রয়োজন সার্বিক সচেতনতার

অনিরুদ্ধ চৌধুরী (গবেষক) -:

       সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গ্রামাঞ্চলে ধান কাটার পর অজ্ঞতা জনিত কারণে জমিতে পড়ে থাকা খড় পোড়ানোর ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দ্রুত জমি পরিস্কার করা ও খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে কৃষকরা এই পদ্ধতি অবলম্বন করলেও এর ফলে মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। খড় পোড়ানোর ফলে বাতাসে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্ষতিকারক গ্যাস ও সূক্ষ্ম ধূলিকণা। এর প্রভাবে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও চোখের জ্বালার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

         পরিবেশবিদদের মতে, খড় পোড়ানোর ফলে শুধু বায়ু দূষণই নয়, মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। এই প্রবণতা বন্ধ করার জন্য সরকার এই বিষয়ে একাধিক কঠোর নিয়ম জারি করেছে। পরিবেশ সুরক্ষা আইন ১৯৮৬ এবং জাতীয় গ্রীন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী খড় পোড়ানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনে নিয়ম ভাঙলে জরিমানা আদায় সহ অন্যান্য শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে বাস্তবে নিয়ম কার্যকর করতে এখনও বহু জায়গায় আইন শৃঙ্খলা জনিত সমস্যা দেখা যাচ্ছে। 

        বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, খড়কে জৈব সার বা কম্পোস্ট এবং পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। পাশাপাশি আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে জমিতে খড় মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়বে। লাভ হবেন কৃষকদের।

     পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে খড় পোড়ানো বন্ধ করতে প্রশাসনিক কড়াকড়ির পাশাপাশি গ্রামবাসীদের সচেতনতা বৃদ্ধি সবচেয়ে জরুরি। এরজন্য প্রতিটি এলাকায় অবশ্যই সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা প্রয়োজন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *