জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী: মুর্শিদাবাদ:-
ঝাড়খণ্ডে বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। পরিবারের দাবি বাংলায় কথা বলার জন্য ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। পেশার তাগিদে সেখানে খবর সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক সোমা মাইতি। একদল দুষ্কৃতি তাকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে। সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে ঘটনাটি কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তর্জা শুরু হবে। কিন্তু দেশজুড়ে সাংবাদিকদের উপর হেনস্থা বন্ধ করার জন্য এবং তারা যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে তার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির দাবি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তোলা হবেনা।
এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে সাংবাদিকদের। জ্বলে উঠুক সমস্ত সাংবাদিকের কলম। তাদের মিলিত প্রতিবাদে কেঁপে উঠুক রাজনৈতিক লুম্পেনদের পায়ের তলার মাটি। সাংবাদিকদের হেনস্থা করার আগে তারা যেন ভাবতে বাধ্য হয় এর পরিণতি কী হতে পারে! ব্যক্তিগত জীবনে যাইহোক পেশাগত জীবনে রাজনৈতিক আল্লাখাল্লা গায়ে চড়িয়ে প্রতিবাদ কখনোই ফল পাওয়া যাবেনা।
সামান্য ত্রুটিবিচ্যুতি ঘটলেও সাংবাদিকরা হলেন সংবিধানের প্রকৃত ‘চৌকিদার’। রাজনৈতিক দলগুলোর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের কাজ করতে হয়। অনেক ঘটনা সরকার চেপে দেওয়ার চেষ্টা করলেও সাংবাদিকদের জন্যেই তাদের এই প্রচেষ্টা সফল হয়না। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ঘৃণার রাজনীতির শিকার হতে হচ্ছে সাংবাদিকদের। সরকারের সমালোচনা করলেই সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের গায়ে সেঁটে দেওয়া হচ্ছে দেশদ্রোহীর তকমা। বিভিন্ন ক্ষেত্রে মতের অমিল থাকলেও সাংবাদিক নিগ্রহের ক্ষেত্রে শাসক ও বিরোধী উভয় দলের মধ্যে একটা অলিখিত মিল দেখা যায়। তাই প্রতিটি রাজ্যেই হেনস্থার শিকার হচ্ছে সাংবাদিকরা। তারপরও নির্লজ্জের মত একে অপরের সমালোচনা করে যাচ্ছে। আসলে দেশের কোনো রাজনৈতিক দল কখনোই নিজেদের বিরুদ্ধে কোনো অস্বস্তিকর প্রশ্ন পচ্ছন্দ করেনা। প্রশ্ন করলেই শাসকদলের প্রশ্রয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের উপর নেমে আসছে নির্মম আক্রমণ। জরুরি অবস্থার সময় একাধিক প্রথম সারির সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বাম এবং তৃণমূল আমলেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।
উত্তরপ্রদেশে সিদ্দিক কাপ্পানকে গ্রেপ্তার করা হলে বা পুণ্য প্রসূণ বাজপেয়ী, অভিসার শর্মারা চাকরি হারা হলেও আমরা চুপ থাকি।
আসলে নিজেদের মধ্যে ঐক্য না থাকার জন্যেই মন্দিরের ঘণ্টা বাজানোর মত যে কেউ সাংবাদিকদের উপর আঘাত করতে সাহস পাচ্ছে। কাউকে ‘দু-পয়সার সাংবাদিক’ বললে আমরা প্রতিবাদ করি কিন্তু ‘চটিচাটা’ বা ‘দলদাস’ বলা হলে নীরব থাকি।
এটাও ঠিক একশ্রেণির সাংবাদিক অনেক সময় সরকারকে ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যালাইন করার জন্য মিথ্যা তথ্য সম্প্রচার করে। সাংবাদিকদের কাছ থেকে এটা কখনোই কাম্য নয়। মাথায় রাখতে হবে তারা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের সৈনিক।
বাস্তবে আর্থিক অনিশ্চয়তা সাংবাদিকদের অসহায় করে তুলেছে। সাংবাদিকরা যাতে নির্ভয়ে কাজ করতে পারে তার জন্য উপযুক্ত পরিবেশের সৃষ্টি করতে হবে। সাংবাদিকদের নিজ পেশার মর্যাদা রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নাহলে বারবার নেমে আসবে আঘাত।