প্রিয়জন নয় প্রয়োজন

সঙ্গীতা কর (কলকাতা)

জ্ঞানের সূত্রপাত হতেই মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম
তিনি কেন এনেছেন আমাকে এই পৃথিবীতে?
মা কপালে স্নেহের স্পর্শ এঁকে বলেছিলেন এই যে তুই এত মিষ্টি করে মা বলে ডাকিস, এই ডাক শোনার জন্য।
বুঝেছিলাম আমার আগমনের অন্তরালে লুকিয়ে আছে মাতৃত্বের স্বাদ।

যখন আমি একটু বড়ো, আমারও একটা বন্ধু হল
বন্ধুকে বলেছিলাম সে কেন আমার সাথে সাথে থাকে?
মুখ ভরা হাসি নিয়ে সে উত্তর দিয়েছিল
মনের কথা বলা আর সময় কাটানোর জন্য একটা মানুষ লাগে।

এরপর যৌবন এলো, গন্ধ পেয়ে প্রেমিক ও এলো
তাকেও জিজ্ঞেস করেছিলাম কেন চাও আমায়?
সে উত্তর দিয়েছিল একটা সুন্দর সংসার গড়তে চায়।

জীবনের একান্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্বামীর সঙ্গে থাকা
তাকেও জিজ্ঞেস করেছিলাম
তুমি কেন বিয়ে করলে আমাকে?
সে অহংকারে বুক ফুলিয়ে বলেছিল প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে সংসার, সন্তান আর পারিবারিক সম্মান রক্ষা করা একান্ত কর্তব্য।

সন্তান উৎপাদিত হল
আদর, স্নেহ, যত্নে তাঁকে বড় করার পর
তার সঙ্গে দূরত্ব বাড়লো
একটা সময় সে নিজেই নিজের কাজ করতে শিখলো
নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিতে শিখলো।

তারপর বউমা এলো
সন্তানের মত ভালোবাসা দিলাম
আবেগে আপ্লুত হয়ে সে বলল
‘মা তুমি ঠাম্মা হবে
আমাদের সন্তানকে নিজের মতো করে বড়ো কোরো’।
আমি হাসলাম, খুব হাসলাম।

আসলে আমি কারো প্রিয়জন হতে পারিনি
প্রয়োজনেই একটা জীবন পার করলাম।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *