রাই প্রিয়া (ক্যানিং)

বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।
যেন প্রাচীন ঋষি মন্ত্রচ্চারণে জাগায় নিদ্রিত পৃথিবী,
শীতের ধূসর চাদর সরিয়ে বিস্তৃত তার সবুজ অঞ্চল,
পাতার শিরায় শিরায় যে নবরক্তধারা তা যেন প্রেমেরই গোপন বারিসিঞ্চন।
শালবনের স্তব্ধতা ভেঙে কোকিল তোলে মধুর কুহুতান,
তার সুরে দোলে নবপল্লব, প্রেম পায় পূর্ণতার গান।
লাল পলাশের শিরায় শিরায় জমে থাকা অভিমানী রক্তের আর্তি,
যেন আগুন হয়ে ফুটে ওঠা প্রেমেরই সাহসী স্বীকারোক্তি ।
দূর প্রান্তরে কৃষ্ণচূড়া যেন এক অগ্নিময় নির্বাক সম্রাট,
মনে হয় অস্তগামী সূর্যের লালিমা তারই বুকে নিয়েছে পরম আশ্রয়।
সমীরণ আবেশী উষ্ণ, মধুর স্পর্শে রেখে যায় অনুরাগের চিহ্ন,
মাটির বুকে ঝরে পড়া পলাশ পাপড়ি যেন পৃথিবীর প্রেমপত্র।
আকাশ অবনত কৌতূহলী হয়ে তা পাঠ করে,
বাতাস সে কথা নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে বহন করে।
মৌমাছি প্রজাপতির কম্পিত ডানায় সোনালী আবেগী স্পন্দন,
আম জাম কাঁঠালের মঞ্জরীতে তারা বারংবার আঁকে চুম্বন।
আমি বলি প্রেম হলো পলাশের মতো সাহসী দহন,
কৃষ্ণচূড়ার মতো উন্মুক্ত ঘোষণা, মানে না আবেগের সংযম।
বসন্ত তাই কেবল ঋতু নয় , সে প্রেমের মহাকাব্যিক রূপক,
সে ক্ষয়ের ভস্ম থেকে উঠে আসা এক নবজন্মের শপথ।
সে বলে –
ভালোবাসাই পৃথিবীর চিরন্তন সবুজ,
আমিই সেই অক্ষয় অরণ্য,
আমি নববসন্ত ,
আমি প্রেমের অবিনশ্বর যৌবন..।।