ফেলে আসা স্মৃতি

শিবানী চক্রবর্তী (শ্রীরামপুর, হুগলী)

এই বাড়িতে আমার জন্মস্থান দেশের বাড়ি,
বসত ঘর খানার মুদুনির পরি কাঠামোটি যেন পূর্বপুরুষের স্নেহ মাখা,
দালানের খুঁটিগুলি যেন করুনার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
সিঁড়ির ধাপ গুলি দ-এর আকার অর্ধ দন্ত অবস্থায়।
সেই দাওয়ার মাটির কুলুঙ্গিতে রেডিওতে ভোরের প্রভাতী সঙ্গীতাঞ্জলির সুর ভেসে আসে এখনো কানে।
ঠাকুর ঘরের পিছনে মাধবীলতার ডালগুলি এলিয়ে পড়েছে।
ফাঁকা বাড়ির পেছনে খেজুর গাছের তলায়, চাটাই পেতে, চা মুড়ি খেতে খেতে, শীত পৌষে ভোরের সূর্য ওঠা আবিরের রাঙানো সবুজ , ধানের ক্ষেত গুলি শিশিরের সোনালী মুক্ত গাথা।
ওই দূরে সাঁওতালিদের ধামসা মাদল বাঁশের বাঁশির সুর ভেসে আসে কানে,
মাটির হাঁড়িতে নতুন ধানের চালের পিঠে পায়েস? কাঠের উনুনে জালানো, ভাত ফুটানোর সুবাসে সারা বাড়ি উমেদ হয়ে যায় এখনো ঘ্রান পায়। নতুন ধান লক্ষ্মী মাথায় নিয়ে শঙ্খ বাজিয়ে হুলুধ্বনি দিয়ে খামার ভরিয়ে দেওয়া।
খিরকিতে জাল পেতে চুনো পুটি মাছ ধরে এনে, মাছের টক পেঁয়াজ আর পান্তা ভাতে, কাঁচা লঙ্কা তে দারুন এখনো সাদ পাই।
সেই স্মৃতি ছোটবেলার, ঠাকুরমার স্নান সেরে তুলসী মঞ্চে তিন পাক প্রদক্ষিণ করে জল ঢালা, লক্ষীর পাঁচালী পড়া রামায়ণ-মহাভারতের গল্প শোনা কোনদিন ভুলবো না।
ভাই বোনেরা একসাথে একটা মশারিতে ছড়া কাটানো গল্প , শোনা।
পশ্চিমে সূর্য্যিপাটে ,সন্ধ্যা
প্রদীপ জালা, শঙ্খ ধ্বনির সুর এখনো কানে ভাসে পাখিরা বাসায় ফেরে,
আবার ভোরে কুহেলিয়ার ডাকে ঘুম ভাঙা,
মা বাবার বকুনি, আবার স্নেহের আদর ভালবাসা।
সেই দিনগুলো ছিল অমূল্য রত্ন, ।
সব যেন কোথায় সব মরীচিকা ধরে গেছে।
অতল স্রোতে, জালিকার পথে, আটকে গেছে হৃদয় লেটার বক্সে।
সেই অক্ষরগুলি মাঝে মাঝে ক্ষত জায়গাগুলিকে খোঁচা দেয়।
সবকিছু যেন আবার নতুন করে পুনর্জন্মের নতুন সৃষ্টি।
সবকিছু ভুলতে বড্ড কষ্ট। যদি পুনর্জন্ম বলে কিছু থাকে
হয়তো নতুন আগামীর পথে আবার———-?

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *