বজ্রপাতে মৃত্যু এক যুবকের, আহত চার

কৌশিক মুখার্জী: চিত্তরঞ্জন:-

চিত্তরঞ্জনের কর্নেল সিং পার্কের সবুজ মাঠে বিকেলের হাসি আনন্দে মেতে উঠেছিল একদল তরুণ।ক্রিকেট ব্যাট আর বলের ছন্দে মুখরিত ছিল মাঠ। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম খেয়ালে সেই আনন্দ মুহূর্তেই শোকে রূপ নিল। বজ্রপাতের এক আকস্মিক আঘাতে চিরতরে থেমে গেল ২৪ বছরের তরতাজা যুবক ঋষভ বিভূতির জীবনযাত্রা।ঋষভের পিতা কমল কুমার বিভূতি চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার একজন সম্মানিত ওয়েলফেয়ার ইন্সপেক্টর। আমলাদহি বাজারে তাঁর হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকান এলাকার মানুষের কাছে বিশ্বাসের প্রতীক। মিহিজামের কিশোরী গলিতে তাঁদের বাড়ি এখন শোকের অন্ধকারে ডুবে আছে। ঋষভ ছিলেন তাঁর বাবার একমাত্র সন্তান, পরিবারের আলো।গত দুই সপ্তাহ ধরে ঋষভ প্রতিদিন বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে কর্নেল সিং পার্কে ক্রিকেট খেলতে যেতেন। সেদিনও, রবিবার বিকেলে, তিনি বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে ছিলেন। হঠাৎ আকাশে ঘন কালো মেঘ জমে উঠল। ঝড়ের পূর্বাভাসে তাঁরা কাছের একটি টিনের ছাউনির নীচে আশ্রয় নিলেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার দিকে এক ভয়ঙ্কর বজ্রপাত তাঁদের ওপর আছড়ে পড়ল। ঋষভ, বিবেক কুমার, অভিনব কুমার, গৌতম কুমার এবং কে. প্রণীত অভিনব গুরুতরভাবে আহত হলেন।
দ্রুত তাঁদের চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। চিকিৎসকদের নিরন্তর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ঋষভের প্রাণ ফিরল না। অন্য চারজনের অবস্থা গুরুতর হলেও চিকিৎসার পর তাঁদের আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা এখন বিপদমুক্ত।এই আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা চিত্তরঞ্জন ও মিহিজামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কমল কুমার,যিনি এলাকায় তাঁর সদাশয়তা ও মানবিকতার জন্য সুপরিচিত, তাঁর একমাত্র সন্তানের এই অকাল প্রয়াণে যেন নিথর হয়ে গেছেন। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে আত্মীয়-পরিচিতরা হাসপাতালে ছুটে এসেছেন,শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।ঋষভের হাসিমুখ, তাঁর জীবনীশক্তি এলাকার মানুষের মনে চিরকাল রয়ে যাবে। এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রকৃতির রূপ যেমন সুন্দর, তেমনই নির্মম।একটি তরুণ প্রাণের এই অকাল বিদায়ে গোটা সমাজ মুহ্যমান।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *