বন্দে ভারত এক্সপ্রেস: ভারতের শহরগুলির রেল যোগাযোগে আধুনিকীকরণ

প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো

ভারত সরকার

**************

Explainer ID: 156964

নয়াদিল্লি, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬

মূল বিষয়সমূহ

– ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৬৪-টি বন্দে ভারত ট্রেন প্রধান করিডোর বা অলিন্দগুলিতে সংযোগ আরও শক্তিশালী করেছে।

– দীর্ঘ দূরত্বের রাতের যাত্রার জন্য ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বন্দে ভারত স্লিপার পরিষেবা শুরু হওয়ার কথা।

– দৃষ্টি রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে ট্রেনের সংখ্যা ৮০০-তে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে প্রায় ৪৫০০-তে উন্নীত করার লক্ষ্যে।

ভূমিকা

২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলার পথে ভারতের জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম মূল স্তম্ভ হয়ে উঠেছে পরিবহণ ব্যবস্থা। আধুনিক পরিবহণ আজ শুধু সংযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অর্থনৈতিক একীকরণ, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসাবে কাজ করছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় রেলের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস দ্রুত, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও যাত্রীকেন্দ্রিক রেল যাত্রার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে নকশা ও নির্মিত আধা-উচ্চগতির ট্রেন হিসেবে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য এবং যাত্রাসময় হ্রাসের মাধ্যমে রেল পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করছে।

বন্দে ভারত এক্সপ্রেস: উন্নত ট্রেন যাত্রার নতুন ভাবনা

বন্দে ভারত ভারতের উচ্চমানের যাত্রীবাহী রেল পরিষেবার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দেশীয়ভাবে উন্নত, স্বচালিত আধা-উচ্চগতির ট্রেন হিসেবে এটি প্রচলিত লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিনচালিত ট্রেনের পরিবর্তে সমন্বিত ট্রেন ব্যবস্থার দিকে একটি স্পষ্ট রূপান্তর নির্দেশ করে। 

মাঝারি দূরত্বের রুটে যাত্রাসময় কমানো ও যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর ক্রমবর্ধমান চাহিদা থেকেই বন্দে ভারতের প্রয়োজন হয়। রাজধানী এক্সপ্রেস ও শতাব্দী এক্সপ্রেস তাদের সময়ে রেল যাত্রায় গুণগত পরিবর্তন এনেছিল। বন্দে ভারত বর্তমান ও ভবিষ্যতের গতিশীলতার প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভারতের যাত্রীবাহী রেল আধুনিকীকরণের পরবর্তী পর্যায়ের ভিত্তি গড়ে তুলছে।

প্রধান বৈশিষ্ট্য

– আধা-স্থায়ী ঝাঁকুনিহীন কাপলার ও উন্নত সাসপেনশন ব্যবস্থায় যাত্রাস্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, পাশাপাশি, রিজেনারেটিভ ব্রেকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শক্তি দক্ষতা বাড়ানো হয়েছে।

– সেফটি ইন্টিগ্রিটি লেভেল ফোর মান্যতাপ্রাপ্ত ভারতের দেশীয়ভাবে উন্নত স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা ‘কবচ’, ট্রেন চলাচল ও সিগন্যাল পরিস্থিতি নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করে দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত গতি ও বিপজ্জনক সিগন্যাল অতিক্রম রোধ করে।

– কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় প্লাগ দরজা, প্রশস্ত সিলড গ্যাংওয়ে, আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ইউভি-সি-ভিত্তিক জীবাণুনাশ ব্যবস্থা সংযোজিত হয়েছে।

– সব কামড়ায় সিসিটিভি ক্যামেরা, জরুরি অ্যালার্ম বোতাম ও যাত্রী-ক্রু যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।

– বায়ো-ভ্যাকুয়াম বিশিষ্ট শৌচাগার ও দিব্যাঙ্গজন-বান্ধব সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

– জিপিএস নির্ভর যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা ও আরামদায়ক আসন যাত্রার অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করেছে।

ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে প্রায় নব্বই শতাংশ দেশীয় উপাদান ব্যবহার করে নির্মিত বন্দে ভারত ট্রেনসেট মেক-ইন- ইন্ডিয়া উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শক্তি দক্ষতা ও সুস্থায়ী উৎপাদনের জন্য ২০২৪ সালে আইসিএফ জাতীয় শক্তি সংরক্ষণ পুরস্কার লাভ করেছে।

বন্দে ভারতের খাদ্যসম্ভার

ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে নির্বাচিত বন্দে ভারত ট্রেনে আঞ্চলিক খাবার পরিবেশন শুরু হয়েছে। ফলে, যাত্রীরা ভারতের বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতির স্বাদ উপভোগ করতে পারেন। মহারাষ্ট্রের কান্দা পোহা, অন্ধ্রপ্রদেশের কোডি কুরা, গুজরাতের মেথি থেপলা, ওডিশার আলু ফুলকপি, পশ্চিমবঙ্গের কষা পনির ও মুরগির ঝোল-সহ বিভিন্ন রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী পদ এতে অন্তর্ভুক্ত।

বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সাত বছর

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে নয়াদিল্লি–বারাণসী করিডোরে প্রথম বন্দে ভারত এক্সপ্রেস শুরু হয়। ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ২৭৪-টি জেলায় ১৬৪-টি ট্রেন সাত কোটিরও বেশি যাত্রী পরিবহণ করেছে। দ্রুত ও দক্ষ পরিষেবার জন্য বহু রুটে যাত্রাসময় প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

বন্দে ভারত স্লিপার: দীর্ঘ দূরত্বে সম্প্রসারণ

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হাওড়া–গুয়াহাটি রুটে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন শুরু হওয়ার কথা। এই রুটে যাত্রাসময় প্রায় তিন ঘণ্টা কমবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। মোট ১৬ কামরার সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই ট্রেনে প্রায় ৮২৩ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।

সমাপ্তি

বন্দে ভারত ট্রেন ভারতীয় রেলের আধুনিক, দক্ষ ও যাত্রীকেন্দ্রিক পরিষেবার দিকে কৌশলগত রূপান্তরের প্রতীক। নতুন প্রজন্মের ট্রেন, বিভিন্ন সংস্করণ ও উন্নত পরিষেবার মাধ্যমে বন্দে ভারত দেশের শহরগুলির মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করছে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুস্থায়ী জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তথ্যসূত্র

************

SSS/RS/….

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *