রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার -:
শিল্পাঞ্চলের রাজনীতির চাণক্য হিসাবে পরিচিত মলয় ঘটক বৃহস্পতিবার আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে মনোনয়ন জমা দেন। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এদিন আসানসোল শহরে তৃণমূলের এক বিশাল শক্তিপ্রদর্শন লক্ষ্য করা যায়।
এদিন সকাল থেকেই আসানসোলের বিএনআর মোড় এলাকায় জমায়েত হতে শুরু করেন হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। হুডখোলা জিপে চড়ে মলয় ঘটক যখন জেলা শাসকের দপ্তরের অভিমুখে রওনা দেন, তখন রাস্তার দু’ধারে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। মিছিলে আদিবাসী নৃত্য, ধামসা-মাদল এবং বাজনার তালে উৎসবে মাতেন সমর্থকরা। নীল-সাদা বেলুন এবং দলীয় পতাকায় ছেয়ে যায় গোটা শিল্পাঞ্চল। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে মহিলাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, যারা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সমর্থনে স্লোগান দিতে থাকেন।
মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আত্মবিশ্বাসী মেজাজে মলয় ঘটক বলেন, “আসানসোলের মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। গত কয়েক বছরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জ্জীর নেতৃত্বে আসানসোলে পানীয় জল, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। মানুষ তার প্রতিদান দেবেন। বিরোধীরা কেবল কুৎসা করে, আর আমরা কাজ করি। জয়ের ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত।” তিনি আরও জানান, “কেবল উত্তর আসানসোল নয়, গোটা জেলাতেই তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করবে।” ‘সার’ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এর উদ্দেশ্য সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। তার প্রমাণ গোটা বাংলার মানুষেরা এখন দেখতে পাচ্ছেন।” তার দাবি, ” ‘সার’ করেও বিজেপি জিততে পারবে না।”
এদিনের এই কর্মসূচির পর আসানসোলের রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট বার্তা গেল যে, ঘরের ছেলে মলয় ঘটককে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস এবারও এই আসনটি ধরে রাখতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে। এখন দেখার, এই জনজোয়ার ভোটের বাক্সে কত বড় লিড এনে দেয়।


